ভারতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ও সেনাবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় একটি স্থানীয় মেলার চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতের এই সহিংসতায় অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি, দোকান ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধসহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সহিংসতার বিস্তার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকরয় থানা এলাকার কুমারঘাটে আসন্ন ‘ভৈরব মেলা’ উপলক্ষ্যে চাঁদা তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
শনিবার সাইদারপার গ্রামে কাঠবোঝাই একটি যানবাহন আটকে মেলা কমিটির সদস্যরা মোসাব্বির আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে শুরু হওয়া বাগবিতণ্ডা দ্রুতই সংঘাতের রূপ নেয়। পরবর্তীতে শিমুলতলা এলাকায় একটি পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে যানবাহনে ভাঙচুর চালায় এবং কাঠবোঝাই গাড়িসহ একাধিক দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি একটি উপাসনালয় ভাঙচুরের খবরও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, দেশজুড়ে বিক্ষোভ
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ত্রিপুরা সরকার। এলাকাটিতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। উনকোটি জেলাজুড়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। উনকোটির পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেলার প্রস্তুতি গুজব ছড়ানো রোধে কুমারঘাট মহকুমাসহ জেলাজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উসকানিমূলক কোনো তথ্য বা পোস্ট শেয়ার না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, মেলার আগে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








