News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৪০, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ফিলিস্তিনি ও ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনি ও ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী এবং সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই দেশগুলো হলো বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস এবং সিরিয়া।

হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় ও জননিরাপত্তা–সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় এই দেশগুলোর স্ক্রিনিং, যাচাই-বাছাই এবং তথ্য আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুতর ও স্থায়ী ঘাটতি থাকার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ১৯টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। 

এই দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন।

এরপর ৪ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অভিবাসন নিষেধাজ্ঞার তালিকা কমপক্ষে ৩২টি দেশে সম্প্রসারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাকি ১৩টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

গুরুত্বপূর্ণ যে, জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা এই পদক্ষেপের পেছনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষভাবে অপ্রত্যাশিত মনে করা হয়নি। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে সম্প্রতি সংঘটিত বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের বিষয়কে নীতিগতভাবে কঠোরভাবে দেখার ঘোষণা দিয়েছিল।

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন করে আরোপ করা বেশ অপ্রত্যাশিত। এর কারণ, অল্পদিন আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরের আগে শারার বিরুদ্ধে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে এখনও স্বীকৃতি না দেওয়া হলেও, নথিতে ফিলিস্তিনিদের উল্লেখ করা হয়েছে ‘পিএ বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ভ্রমণ নথি নিয়ে ভ্রমণের চেষ্টা’কারী ব্যক্তি হিসেবে। ট্রাম্প প্রশাসন ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড’ বলতেও বিরত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তায়েব ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দেশের জনমিতি বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন কূটনৈতিক এবং অভিবাসন–নির্ভর বিশ্লেষকরা, যারা ভবিষ্যতে এ পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করবেন।

সূত্র: হোয়াইট হাউস, জিও নিউজ, রয়টার্স, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়