সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন এপস্টেইন
ছবি: সংগৃহীত
পস্টেইন ফাইলসে থাকা ২০২০ সালের এফবিআইয়ের এক নথিতে কুখ্যাত শিশু নিপীড়ক ও ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে ‘গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের গোপন মানব সূত্র (সিএইচএস) প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত এ নথিতে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ বা বিদেশিদের অসাধু প্রভাব’ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
হার্ভার্ডের আইনের অধ্যাপক অ্যালান ডেরশোউইৎজ ও এপস্টেইনের মধ্যে ফোনালাপ ‘শেয়ার করেছে’, যেগুলোর কথা সূত্রটি টুকে রাখতো বলে নথিতে বলা হয়েছে।
সেসব ফোনালাপের বিস্তারিত পরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো, বলেছে মিডল ইস্ট আই।
ওই সূত্রটি ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর যে তথ্য দিয়েছে তাতে দাবি করা হয়েছে, এহুদ বারাক ইসরায়েলের এখনকার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘অপরাধী’ মনে করতেন। তথ্যদাতার দাবি, তিনি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট অনেক আলাপচারিতা শুনেছেন এবং পরে তিনি ও তার সঙ্গে আরও অনেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে ‘এপস্টেইন ছিলেন মোসাদ সংশ্লিষ্ট একজন এজেন্ট’।
ডেরশোউইৎজ একবার এক মার্কিন অ্যাটর্নিকে ‘এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত’ এমনটা বলেছেন বলেও শুনেছেন ওই তথ্যদাতা।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রীর ১৭ বছরের সাজা
সুনির্দিষ্ট একটি সোর্স আইডির অধীনে থাকা এ অনামা সূত্রটিকে এপস্টেইন ফাইলসে কেবল একবারই পাওয়া গেছে। তার দাবি, ডেরশোউইৎজ নিজেও মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও উপদেষ্টা, ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ডেরশোউইৎজ এপস্টেইন সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি হার্ভে উইনস্টন, ডনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক হাই-প্রোফাইল মার্কিন মামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন।
সূত্রটি আরও বলেছে, ‘প্রযুক্তি চুরি’ করতেই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ‘ডে ওয়ান’ সিলিকন ভ্যালিতে এসেছে বলে তাদের ধারণা। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মাশা বুচার ছিলেন এপস্টেইনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা। এফবিআইয়ের ওই সূত্রটি মাশাকে ‘রাশিয়ান ইয়ুথ আন্দোলনে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান যোগাযোগ’ বলেও অ্যাখ্যা দেয়।
সূত্রটি ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্পজামাতা জারেড কুশনারের পরিবারের দীর্ঘ যোগাযোগ আছে বলেও ইঙ্গিত দেয়। অনামা এ তথ্যদাতা জারেডের বাবা চার্লস কুশনারের নামও নেন এবং ‘কুশনার পরিবারের ব্যবসায়িক অনিয়মের ইতিহাস এবং তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে’ বলেও জানান। তবে কুশনার পরিবারের ‘ব্যবসায়িক অনিয়ম’ নিয়ে বিস্তারিত ওই নথিতে স্থান পায়নি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও কিছু নথিতেও প্রয়াত এ যৌন নিপীড়কের সঙ্গে এহুদ বারাকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। বারাক ২০০৭ ও ২০১৩ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইন বারাককে প্রযুক্তি কোম্পানি পালান্টির সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে একটি জ্বালানি কোম্পানিতে চাকরি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ‘বিপুল পরিমাণ’ পরামর্শক ফি নিয়ে আলোচনাও করেছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অবশ্য বলছেন, এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টেইনের ‘অস্বাভাবিক ভালো সম্পর্কে’ এটা প্রমাণিত হয় না যে, প্রয়াত এ যৌন নিপীড়ক ইসরায়েলের জন্য কাজ করতেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








