News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:০০, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১১:০৮, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারের কবলে ৭২ শতাংশ মানুষ: এইচআরডব্লিউ

বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারের কবলে ৭২ শতাংশ মানুষ: এইচআরডব্লিউ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭২ শতাংশই কোনো না কোনো ‘স্বৈরাচারী’ শাসনব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের ‘বিশ্ব প্রতিবেদন ২০২৬’-এ এমন চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। 

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ৫২৯ পৃষ্ঠার এই বিশদ প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি ঘটে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক এখন ১৯৮৫ সালের পর্যায়ে নেমে গেছে।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্ব এমন নেতাদের হাতে রয়েছে যারা নিয়ম, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রতি প্রকাশ্যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন এবং যথেষ্ট অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তির অধিকারী।

এইচআরডব্লিউয়ের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মানবাধিকারের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা দেখিয়েছেন এবং চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর সশস্ত্র ও মুখোশধারী এজেন্টরা শত শত সহিংস ও নিপীড়নমূলক অভিযান চালিয়েছেন, যা আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কল্পনাতীত ছিল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ণ ও জাতিগত দোষারোপ, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক শত্রু ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ এবং নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা এসবই স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্ববাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গ্র্যামিতে এপস্টেইনকে জড়িয়ে মন্তব্য, মামলার হুমকি ট্রাম্পের

এইচআরডব্লিউ আরও অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলপূর্বক গুমের সঙ্গে জড়িত, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। ২৫২ জন ভেনেজুয়েলার অভিবাসীকে এল সালভাদরের কারাগারে প্রেরণ করা এই প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীন ও রাশিয়ার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই দেশ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রেখেছে। বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক বর্তমানে ১৯৮৫ সালের সমতলে নেমে এসেছে। রাশিয়া ও চীনের নাগরিকরা ২০ বছর আগে যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করতেন, এখন তা অনেকাংশে সীমিত হয়েছে।

এইচআরডব্লিউয়ের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিওন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের ভিত্তিতে জোট গঠন করা জরুরি, যাতে ট্রাম্পের মতো শুল্ক আরোপকারী নেতাদের মোকাবিলা করা যায়।

প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত। পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এল সালভাদরে ২০২৪ সালে কোনো বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং অপরাধ ‘ঐতিহাসিক পর্যায়ে’ নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল সালভাদরে গ্যাং সহিংসতা কমলেও ২০২৫ সালে গণগ্রেপ্তার, গুম এবং নির্যাতনের মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনটি ইসরাইলকেও অভিযুক্ত করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং জাতিগত নিধন চালানোর জন্য। 

বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ হত্যা, অনাহার এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে তাদের নৃশংসতা আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে শক্তিশালীভাবে একত্রিত হওয়া।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়