নাইজেরিয়ার কওয়ারা গ্রামে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬৭
ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কওয়ারা রাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রস এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজ্যের ওরো গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নাইজেরিয়ার কওয়ারা রাজ্যের ওরো গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রস হামলার পর পরিস্থিতি পরিদর্শন করে নিহতদের শনাক্তের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থার প্রদেশীয় সেক্রেটারি বাবামো আইয়োদেজি জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত তারা ৬৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন, তবে কিছু মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়ভাবে ‘বান্ডিট’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর সদস্যরা গ্রামাঞ্চলে লুটপাট চালানো, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর সহিংসতার জন্য ভয় সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে জাতিগত সহিংসতা এবং উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীর কার্যক্রমও বেড়ে চলেছে।
আরও পড়ুন: গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা
স্থানীয় পুলিশ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে সঠিক হতাহতের সংখ্যা এখনও জানায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।
কাইয়ামা অঞ্চলের আইনপ্রণেতা বাবা আহমেদ জানিয়েছেন, হামলার সময় অনেক বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝোপঝাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। এই অঞ্চলে আরও মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওরো গ্রামে বন্দুকধারীরা প্রবেশ করে দোকানপাট এবং রাজার বাসভবনে আগুন দেয়। গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে রাজার অধীনে চলেন এবং হামলার পর থেকে রাজা নিখোঁজ। কওয়ারা রাজ্যের গভর্নর আব্দুল রহমান আব্দুল রাজাক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মুখে হতাশ হয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাপুরুষোচিতভাবে আক্রমণ চালিয়েছে।
এই হামলা আবারও স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার কঠিন চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








