News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:১৬, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইইউ’র

ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইইউ’র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা এবং ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগে তেহরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইইউ। 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে কাজা কালাস বলেন, কোনো ধরনের দমন-পীড়নকে ছাড় দেওয়া ইইউ’র নীতির পরিপন্থী। তিনি মন্তব্য করেন, যে সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, সেই সরকার শেষ পর্যন্ত নিজের অজান্তেই নিজের কবর খোঁড়ে। সম্প্রতি ইরানে যে রক্তপাত ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইইউ’র ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল। এএফপিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আন্দোলন দমনের নামে ইরান যে নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে, তা সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক রক্তপাতের প্রতিবাদ জানাতেই ইইউ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ফ্রান্স ও ইতালি প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তেহরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েল ইইউ’র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউরোপের এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ইইউ’র নিষেধাজ্ঞার ফলে আইআরজিসি সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা আরও সহজ হবে।

তবে ইইউ’র এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘গুরুতর কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন এক সময়ে ইউরোপ এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধপরিস্থিতি এড়াতে বহু রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। 

তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আগুনে হাওয়া দেওয়ার শামিল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি মারাত্মক ভুল।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি ইরানের একটি অভিজাত সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত। যদিও দেশটির একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী রয়েছে, বাস্তবে আইআরজিসির রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তার চেয়েও বেশি। বাহিনীটি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচিতে তাদের গভীর প্রভাব রয়েছে।

আইআরজিসির আনুমানিক সক্রিয় সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। শুধু ইরানেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এই বাহিনীর প্রভাব বিস্তৃত। তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিত্রদেশগুলোর সরকারকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে ২০২৪ সালে কানাডা আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। দীর্ঘদিন ধরে কানাডার বিরোধী আইনপ্রণেতা ও ইরানপ্রবাসীদের দাবির মুখে সে সময় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: এএফপি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়