News Bangladesh

যশোর সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২২ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ১৯:৪১, ২২ এপ্রিল ২০২৬

শাশুড়ীর গলা কেটে হত্যা করে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে আসেন পুত্রবধূ

শাশুড়ীর গলা কেটে হত্যা করে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে আসেন পুত্রবধূ

ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক কোলহের জের ধরে শাশুড়ী সখিনা বেগম(৬০)কে গলা কেটে হত্যার পর বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে আসেন পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০)।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মরিয়ম বেগমকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও কোতয়ালী থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২১ এপ্রিল সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন এবং জানান বাসায় রান্না হয়নি। এসময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন, কিন্তু তখনও একই কথা বলা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শহিদুল ইসলাম থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতরে মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম

খবর পেয়ে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যার অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে অধিকতার তদন্ত চালানো হচ্ছে। আটক মরিয়মের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসময়ে উপস্থিত ছিলেন যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়