News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

কুমিল্লায় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২ নিহত

কুমিল্লায় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২ নিহত

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দীর্ঘদিনের পুরনো বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং পায়ের রগ কেটে দুইজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০–১৫ জন। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের ঠিক আগে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নয়ন এবং বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহম্মদ। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সময় হামলাকারীরা নিহতদের গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়, যার ফলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহতদের কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, আলিয়ারা গ্রামের আবুল খায়ের মেম্বার গ্রুপ এবং ছালেহ আহম্মদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বছর একই দুই পক্ষের সংঘর্ষে দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন নিহত হন। সেই সময় এক পক্ষ অপর পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্য দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই পরিবারগুলো নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসলেও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

আরও পড়ুন: এবার রাজধানীর জিগাতলায় আবাসিক ভবনে আগুন

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পূর্বসূরী ঘটনা হিসাবে গত বছরের জুনে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আবুল খায়ের গ্রুপ ও ছালেহ আহম্মদ গ্রুপের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ ঘটেছিল। ওই সময়ও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন রোকন আলীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৬০) এবং বশির আহম্মেদের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫৫)। এরপর আবুল খায়ের থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর আজকের ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি বলেন, দুই গ্রুপের বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, গত এক বছরে এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটে, কিন্তু পুলিশ কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি, যা অপরাধ দমনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়