News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
আপডেট: ২৩:৩৫, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এরশাদপুত্র এরিককে খেতে না দেয়ার অভিযোগ

এরশাদপুত্র এরিককে খেতে না দেয়ার অভিযোগ

ঠিকমতো খেতে না দেয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ছেলে এরিক এরশাদ। এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার ফেসবুকে পেজে আপলোড দেয়া ভিডিওতে এরিক এ অভিযোগ জানান।

রোববার বিকেলে ভিডিওটি আপলোড করেন বিদিশা। তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এরিককে বলতে শোনা যায়- “প্রিয় হোম মিনিস্ট্রি আঙ্কেল, আমি এরিক বলছি। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে খেতে দেয়া হত না।”

“আমার লিগ্যাল গার্ডিয়ান আমার চাচা জি এম কাদের না, আমার মা। সেক্ষেত্রে ওনার (জি এম কাদের) তো কোনো রাইট নাই, আমাদের এরকম টর্চার করার।”

গত শুক্রবার এরশাদের ছোট ছেলে এরিক এরশাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিস্তর অভিযোগ এনেছেন তার মা বিদিশা। এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে থাকা অটিস্টিক এরিককে ‘চরম অবহেলা করে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানো হয়েছে’ বলে অভিযোগ বিদিশার। তার অভিযোগের তীর এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের দিকে।

চলতি বছর জুলাইয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুর পর ছেলে শাহতা জারাব এরিককে নিজের কাছে রাখতে চাইছিলেন মা বিদিশা।

তবে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকা এরিকের সঙ্গে দেখা করাটা সহজ ছিল না বলে জানান বিদিশা। তার অভিযোগ, এরিকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা তাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে ‘বাধা দিতেন’।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘একরকম জোর’ করেই বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের বাসভবনে উঠে পড়েন বিদিশা। ওই ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তার তরুণ ছেলে এরিক।

এখনও ওই ফ্ল্যাটে থাকা বিদিশা বলেন, “সেদিন রাতে এসে শুনি, এরিককে ওরা মাত্র একবেলা খাবার খেতে দিত। এরিকের ওজন কমে গেছে। সে নিজেও খুব ভীতিসন্ত্রস্ত ছিল।”

এদিকে এরিকও বলেছেন, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে তিনি ‘কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’ এরিকের দায়িত্ব নিয়ে এরশাদ-বিদিশার লড়াই আদালতে গড়িয়েছিল। ২০০৫ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর এরশাদের মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বিদিশাকে। পরে আদালতের মাধ্যমে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। বারিধারার বাড়িতে এরিককে নিয়ে থাকতেন তিনি।

মৃত্যুর আগে এরিকের ভরণপোষণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করে যান এরশাদ। সেই ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন এরশাদের ভাতিজা ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ আখতার। এরিকের সঙ্গে দেখা করতে না দেয়ায় বিদিশার অভিযোগ রয়েছে খালেদের বিরুদ্ধেও।

তবে খালেদ উল্টো বিদিশাকে দোষারোপ করে বলছেন, “তিনি (বিদিশা) প্রায় উটকো লোক নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন। চেয়ারম্যান স্যারও তার জীবদ্দশায় বলে গেছেন, বিদিশা যেন এই বাড়িতে না আসে।”

বিদিশা বলেন, তিনি এরিককে সঙ্গে নিয়ে থাকতে চান। কোথায় থাকতে চান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 

“এরিক যেখানে থাকতে চাইবে, আমি সেখানেই থাকব। সে যদি এখান থেকে আমার গুলশানের বাসায় থাকতে চায়, তাও আমি মানব। আর এটা তো (প্রেসিডেন্ট পার্ক) এরিকেরই বাড়ি।”

গত শুক্রবার বিদিশা তার ফেসবুক পেজেও এক পোস্টে জানিয়েছেন, এরিককে ঠিকমতো খাবার খেতে দেয়া হচ্ছিল না বহুদিন ধরেই। এরিক বিদিশার কাছে অভিযোগ করেছেন, তাকে শুধু দুপুরে এক বেলা খাবার খেতে দেয়া হতো। এবং এরশাদ মারা যাওয়ার আগে যেসব মিনারেল ওয়াটার এবং বিস্কুট রেখে গিয়েছিলেন সেসব খেয়েই খিদে মেটাতেন এরিক।

ভিডিও

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়