News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে রিজার্ভে স্বস্তি

প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে রিজার্ভে স্বস্তি

ফাইল ছবি

চলতি মাসের ২৯ দিনের মধ্যে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ডলারসংকট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে প্রবাসী আয় ৩০৪ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।

  • রিজার্ভের অবস্থান: প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়মিত ডলার কিনে চলেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩,৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২,৮৫১ কোটি ডলারের ওপরে দাঁড়িয়েছে।
  • ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: দেশে প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়েছিল, এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৬ বিলিয়ন ডলারে। এরপর থেকে প্রবাসী আয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে পুনরায় রিজার্ভ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
  • মাসিক প্রবাসী আয়ের চিত্র: চলতি মাসের ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩০৪ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে, গত বছরের মার্চে রেকর্ড প্রবাসী আয় হয়েছিল ৩২৯ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩,০৩৩ কোটি ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২,৩৯১ কোটি ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ডলার কেনা ও রিজার্ভ বৃদ্ধি: চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৩১৩ কোটি ডলার কিনেছে, যার মধ্যে ডিসেম্বর মাসে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেনা হয়েছে। প্রতি ডলার গড়ে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে রিজার্ভ ৩৪–৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক ঋণ নয়, দেশীয় অর্থ উৎস থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ২৭ দিনে প্রবাসী আয় এলো ২৭৫ কোটি ডলার

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি, প্রবাসী রেমিট্যান্সে স্বস্তি

  • অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ বা মালিক পলাতক থাকায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। নতুন বিনিয়োগও প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না।
  • রেমিট্যান্সের ভূমিকা: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় ৪০ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা বিশেষ।
  • ডলারের বাজার: দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর বাড়ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জুলাই ২০২৪ থেকে ডলার কেনা শুরু করে ব্যাংকগুলো থেকে ক্রয় নিশ্চিত করেছে। এ প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কিনেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
  • ঐতিহাসিক রেকর্ড: দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ হয়েছিল ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। এরপর তা কমে পতনের সময় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বর্তমান প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি অর্থনীতিকে স্বস্তি দিয়েছে।
  • মূল্যস্ফীতি ও ডলার স্থিতিশীলতা: দীর্ঘদিন দুই অঙ্কের ঘরে থাকা মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে ৮.২৯ শতাংশে এসেছে। চব্বিশের আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। ডলার প্রাপ্তিতেও কোনো সমস্যা নেই।

রিজার্ভ কমতে শুরু করার অন্যতম কারণ হিসেবে লুটের অর্থনীতি ও অনিয়ন্ত্রিত অর্থপাচারের ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হয়, এবং ব্যাংক ব্যবস্থায় ব্যালেন্স হারিয়ে যায়। ২০২৩ সালে আইএমএফ ঋণ ও শর্তের মাধ্যমে কিছুটা শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত ডলার ক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণ আসার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকট থাকলেও অর্থনীতি প্রবাসী আয় ও ডলার স্থিতিশীলতার কারণে স্বস্তি অনুভব করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়