এবার বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক নেদারল্যান্ডসের, উত্তাল ইউরোপ
ফাইল ছবি
আগামী জুন মাসে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের সুর জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত বক্তব্য এবং মিত্র দেশগুলোকে হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জার্মানির কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানের বয়কট বার্তার পর এবার বড় ধরনের প্রতিবাদ শুরু হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। দেশটির জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রডিউসার টিউন ফন দ্য কেউকেন ডাচ ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত ওই পিটিশনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সই করেছেন।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং মিত্রদের প্রতি আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে সেখানে ফুটবলারদের পাঠানো নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। একে বৈধতা দেওয়া মানে স্বৈরাচারী মনোভাবকে সমর্থন করা।
বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা)-র এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে। এর পরদিন একই শহরে উয়েফার বার্ষিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বয়কট ইস্যুতে চূড়ান্ত কোনো রূপরেখা আসতে পারে।
তবে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো বড় দেশগুলোর নীতিনির্ধারকেরা এখনই চরম কোনো সিদ্ধান্তে যেতে রাজি নন।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ বর্জনের পরিকল্পনা নেই, তবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জার্মানির ক্রীড়ামন্ত্রী ক্রিস্টিয়ানে শেন্ডারলাইন জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও ফিফা; সরকার কেবল সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেবে।
বেলজিয়াম ফুটবল দলেও বয়কট নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী অঞ্চলের ক্রীড়ামন্ত্রী জ্যাকলিন গালাঁ খেলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার পক্ষ নিলেও দেশটির ফুটবল ফেডারেশন পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
ব্রাসেলসের ইউনিভার্সিতে লিব্র দ্য ব্রুসেলের অধ্যাপক জঁ-মিশেল দ্য ওয়াল এই সংকটকে দেখছেন গভীর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
তার মতে, পূর্ণ বয়কট হয়তো কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে কঠিন হবে, তবে দলগুলো মাঠে গিয়ে প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিসা জটিলতা এবং বর্ণবাদি আচরণের আশঙ্কায় অনেক সমর্থক বিশেষ করে যারা ‘নীল চোখের বা স্বর্ণকেশী’ নন, তাদের নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য চাওয়ার মার্কিন পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ।
২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে। বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ১৫ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এর পর ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান এবং ২৬ জুন ভ্যাঙ্কুভারে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে রুডি গার্সিয়ার শিষ্যদের। তবে মাঠের এই সূচি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে উয়েফার আগামী বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মোড় পরিবর্তনের ওপর।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








