News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ১৯:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হারের ক্ষত ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। পেসার নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এবং তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরল, যা শেষ ম্যাচটিকে রূপ দিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।

সোমবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার গতির ঝড়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে (১৩) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শিকার শুরু করেন নাহিদ। পরের ওভারেই উইল ইয়ংকে (৭) বিদায় করে কিউইদের চাপে ফেলেন তিনি। দলীয় ৫২ রানে অধিনায়ক ল্যাথামকে (১৪) সৌম্য সরকার সাজঘরে পাঠালে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও নাহিদ রানা আবারও আঘাত হেনে আব্বাসকে (১৯) আউট করেন। ওপেনার নিক কেলি সেঞ্চুরির পথে থাকলেও ৮৩ রানে শরিফুল ইসলামের বলে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শেষ দিকে নাহিদ রানার তোপে আর কেউ দাঁড়াতে না পারলে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন।

আরও পড়ুন: ব্যাটিং বিপর্যয়ে আধুনিক ক্রিকেটে পিছিয়ে বাংলাদেশ

১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সাইফ হাসান। প্রথম বলেই চার মেরে যাত্রা শুরু করলেও ৬ বল খেলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। দীর্ঘদিন পর একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারও থিতু হতে পারেননি; একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১১ বলে ৮ রান করে ফেরেন সাজঘরে। তবে তৃতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১২০ রানের বিধ্বংসী জুটি বাংলাদেশের জয়কে সহজ করে দেয়। তামিম ছিলেন রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করে, মাত্র ৫৮ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলেন ৭৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস। সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও জেইডেন লেনক্সের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। অন্যদিকে, শান্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭১ বলে ৫০ রান পূর্ণ করার পর পায়ের টানে (রিটায়ার্ড হার্ট) মাঠ ছাড়েন।

শান্তর মাঠ ছাড়ার পর লিটন দাস দ্রুত ফিরে গেলেও কোনো ঝুঁকি নিতে দেননি তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। হৃদয় ৩০ রান এবং মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই বাংলাদেশ ছিল শতভাগ পেশাদার। বিশেষ করে মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে নাহিদ রানার গতি এবং টপ অর্ডার ব্যাটারদের ইতিবাচক মানসিকতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আগামী ম্যাচে এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়