বগুড়া থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল থেকে দেশব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি–২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আয়োজিত এ জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে শিশুদের জন্য নির্ধারিত এই টিকাদান ক্যাম্পেইন কার্যক্রম শুরু হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন।
অনুষ্ঠানসূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বগুড়ায় পৌঁছান এবং বেলা ১০টার দিকে সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। এরপর তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। একই স্থান থেকে বগুড়াসহ সাতটি জেলায় ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমও চালু ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জনদাবির প্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং বগুড়াকে একটি মডেল টাউনে পরিণত করতে হলে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের মারাত্মক সংক্রামক রোগ হাম এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রুবেলা প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এই টিকা প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন: নিজের বাড়ির মা-বোনদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি: তারেক রহমান
তারা আরও জানান, সফল টিকাদান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষিত জনবল, পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ এবং নির্ভুল তথ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কোনো শিশু যেন এই সুরক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই স্থানীয় নারী–পুরুষ, শিশুদের অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে ছিল।
স্থানীয়দের মতে, রাজধানীর বাইরে একটি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচির উদ্বোধন বগুড়া জেলার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক সময়ের মধ্যে লক্ষ্যভুক্ত শিশুদের সম্পূর্ণভাবে টিকার আওতায় আনার সক্ষমতার ওপর।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








