৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি সাতক্ষীরা, সারাদেশে ঝাঁকুনি
ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আবারও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫.৩। এতে জানমালের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরপর দুপুর ১টা ৫২ থেকে ১টা ৫৪ মিনিটের মধ্যে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে; অন্যদিকে কিছু প্রতিবেদনে সময় উল্লেখ করা হয়েছে দুপুর ১টা ৫৩ মিনিট এবং ১টা ৫৪ মিনিট।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের টাকি থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
সংস্থাটি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ৩ এবং গভীরতা ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার বলে নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) ওয়েবসাইটেও মাত্রা ৫ দশমিক ৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
ইএমএসসির তথ্যে বলা হয়েছে, উৎপত্তিস্থল খুলনা জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত; গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার।
সাতক্ষীরায় শক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কম্পন টের পাওয়া যায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু এলাকাতেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিকবার ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে। মাসের প্রথম ২৬ দিনে অন্তত আটবার কম্পন অনুভূত হয়। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প দিয়ে এ ধারাবাহিকতা শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিন দফা ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়; এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি কম্পন ছিল। একই সময়ে মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।
৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুইবার কম্পন টের পাওয়া যায়। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫ দশমিক ১ মাত্রার মাঝারি ভূমিকম্পেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ‘হালকা’ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা থেকে কেন্দ্রস্থলটির দূরত্ব ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার।
ইউরোপীয়ান মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজি সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ওই কম্পনের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারি মাসে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ভূমিকম্পে দেশ কেঁপে উঠলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূকম্পনের ঘনঘটা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








