News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৩:২৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন হবে না’

‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন হবে না’

ছবি: সংগৃহীত

পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টটি বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে এবং এখন সেই রিপোর্টের সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শাহাদাতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তা কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অন্যতম এক নৃশংস ঘটনা। 

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের উদ্দেশ্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল দীর্ঘ দেড় দশকেও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে যে জাতীয় কমিশন গঠন করেছিল, তাদের দাখিলকৃত রিপোর্টে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সুপারিশমালার ভিত্তিতেই বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন: শহীদ সেনা দিবসে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রিপোর্টটি হাতে পেলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। নবনির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসার পর এই সংবেদনশীল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, কমিশনের রিপোর্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে নতুন করে আর কোনো কমিশনের প্রয়োজন নেই। বরং বিদ্যমান রিপোর্টের আলোকে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নারকীয় তাণ্ডবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না এবং এ দেশকে একটি দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তারাই এমন দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত ছিল।

তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, যারা এই অশুভ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং যাদের হাতে সেনাসদস্যদের রক্ত লেগে আছে, তাদের প্রত্যেকের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এই জাতীয় কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস কেউ না পায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। আজ এই ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। পিলখানা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করলেও উচ্চ আদালতে এখনো অনেক আপিল বিচারাধীন। এছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সরকার এখন এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত করার দিকেই নজর দিচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়