News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫১, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১০:৫৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দলবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের লক্ষ্যে নতুন সরকারের শুদ্ধি অভিযান

দলবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের লক্ষ্যে নতুন সরকারের শুদ্ধি অভিযান

ফাইল ছবি

দেশের স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনে গতি ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় পুরনো নীতি-চর্চা সংস্কারের পাশাপাশি কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি এবং অফিস সময় রক্ষার বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এর অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের কর্মকর্তাদের বলয় ভাঙার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নতুন সরকার প্রশাসনের চাবিকাঠি নতুন ও যোগ্য কর্মকর্তাদের হাতে রাখতে চায়। একই সঙ্গে অফিসে সময়মত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত না হলে বা নির্ধারিত সময়ের আগে অনুমতি ছাড়া দপ্তর ত্যাগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজান মাসে অফিস ত্যাগের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে- বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটের আগে এবং রমজান পরবর্তী সময়ে বিকাল ৫টার আগে কোনো কর্মকর্তা অফিস ত্যাগ করতে পারবে না।

সূত্র জানায়, নতুন সরকার শপথের পরপরই মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরু থেকেই সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অফিসে ঠিকমতো উপস্থিত হচ্ছেন কি না। এর প্রভাবে সচিবালয়ে সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে।

সরকার প্রশাসনকে পুনর্গঠন করতে ব্যাচভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের নির্দেশনা দিতে পারে। গত বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই পদায়নে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা বঞ্চিত ছিলেন। ফলে অতিরিক্ত উৎসাহী দলবাজ সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবদের বদলি বা প্রয়োজন হলে ওএসডি করা হতে পারে। প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগও বাতিল হতে পারে। সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সচিবরা সরকারের অংশ, কোনো দলের নয়। তাদের ব্যক্তিগত মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে মূল্যায়ন হবে মেধা ও কাজের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে নতুন সরকার যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে বিশেষ আদর্শে নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে নতুন মুখ আনছে। ইতিমধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল এবং তিন সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া দুই সচিবের দপ্তর বদল হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের সময় পূর্ববর্তী আশঙ্কার কারণে মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিব নিজে থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বর্তমানে যারা এই পদে আছেন, তারা চুক্তিভিত্তিক। চুক্তির বাইরেও কিছু নিয়মিত সচিব পদে রদবদল আসছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তমন্ত্রণালয় পরিবর্তন করা হবে। দ্রুত জনপ্রশাসনে পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ (এপিডি) মাধ্যমে নিয়োগ ও রদবদল কার্যকর করা হবে। 

উল্লেখযোগ্য যে, এপিডি শাখা গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও রদবদলের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কয়েক মাস ধরে শূন্য ছিল।

সাবেক সচিব এ কে এম আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন সরকার আসলে কিছু রদবদল হয়। প্রশাসনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সত্যিকারের যোগ্য কর্মকর্তাদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কর্মকর্তাদের দলদাস হওয়া উচিত নয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনার ফলে অফিস সময়ের বিষয়ে শৃঙ্খলা ফেরানো হচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা পূর্বে সকাল ৯টার পরিবর্তে ১০টায় অফিসে আসতেন। নতুন নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অফিস ছাড়ার ক্ষেত্রে অধীন দপ্তর/সংস্থা থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে পৃথক চিঠি জারি করেছে।

প্রতিবেদক সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ফলে প্রশাসনের সকল স্তরে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে এবং যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমের মান বৃদ্ধি পাবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়