News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৫, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৮০ দিনের পরিকল্পনায় প্রশাসনিক রদবদল শুরু

১৮০ দিনের পরিকল্পনায় প্রশাসনিক রদবদল শুরু

ফাইল ছবি

দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে ব্যাপক পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। 

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন সচিবকে নিজ দপ্তর থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া তিন সচিব হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন আজাদ ও কাইয়ুম আরা বেগম; বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী; জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (জ্যেষ্ঠ সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের; ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।

নতুন সরকার গঠনের আগে তিন দিনের ব্যবধানে প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন। তারা হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। পরে চুক্তিতে কর্মরত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, যিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ছিলেন।

সরকার ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এই ছয় সিটি করপোরেশনে বিএনপির ছয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনে পরিবর্তন একবারে নয়, ধাপে ধাপে আনা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্তত ১২টি সচিব পদ বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও রদবদল আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেছেন, কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়; সংবিধান, আইন ও কার্যবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনই হবে মূল মানদণ্ড।

আরও পড়ুন: খুব দ্রুত পুলিশে ২৭০০ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভূমিধস বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনগণের ম্যান্ডেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আটটি জ্যেষ্ঠ পদে রদবদল করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; কৃষি; প্রতিরক্ষা; অর্থ; স্থানীয় সরকার; রেলপথ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; স্বাস্থ্যসেবা; গৃহায়ণ ও গণপূর্তসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ পর্যালোচনায় রয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নতুন সরকার এলে প্রশাসনে পরিবর্তন অনিবার্য; তবে তা অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার হতে হবে। মেধা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না হলে অতীতের ভোগান্তি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণই হবে একমাত্র মানদণ্ড; কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের প্রথম ছয় মাসে জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পদে ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয় এবং সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান পুনর্বিন্যাসকে প্রশাসনের কাঠামো পুনর্গঠনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। 
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়