প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি, ২২ থেকে প্রচারণা
ফাইল ছবি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ২০ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এর পরের দিন, ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করবে।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা–প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
এ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি প্রার্থী বৈধ তালিকায় রয়েছেন। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষে ভোটের মাঠে কারা থাকছেন এবং কারা সরে যাচ্ছেন- সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হবে প্রতীক বরাদ্দের পর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ইসির পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী তার সইযুক্ত লিখিত নোটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ বা তার আগে নিজে অথবা লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি একটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, সেই ক্ষেত্রে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তির স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ বা তার আগে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। এতে ওই দলের অন্য প্রার্থীরা আর প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না।
আরও পড়ুন: ‘আমাদেরই একটি অংশ চায় না নির্বাচন সুষ্ঠু হোক’
ইসির পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, একবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য লিখিত নোটিশ দেওয়া হলে অথবা রাজনৈতিক দল কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন করা হলে তা কোনো অবস্থাতেই প্রত্যাহার বা বাতিল করা যাবে না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন দেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টিকে বৈধ ও ৭২৩টিকে বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আপিল শুনানিতে আরও চার শতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরের কার্যক্রম সম্পর্কে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফরম-৫-এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণক্রমানুসারে সাজিয়ে লিখতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ হয়েছে। মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়, যার মধ্যে ৪২৫টি মঞ্জুর, ২০৯টি নামঞ্জুর এবং ১১টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে কমিশন কোনো ধরনের চাপের মুখে নেই এবং নিরপেক্ষভাবে তফসিল অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছে।
এভাবে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের মাধ্যমে আগামী দিনের জাতীয় সংসদ নির্ধারিত হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








