News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস চীনা রাষ্ট্রদূতের

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস চীনা রাষ্ট্রদূতের

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। 

তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমানে এর কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।

এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলোকে চীন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। 

তিনি আশ্বাস দেন, চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ হবে না, বরং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, চীন তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিদর্শনটি সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় চীনের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে ৬৪৫ সংখ্যালঘু ঘটনার ৭১টিই সাম্প্রদায়িক

পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তারা চীনের সঙ্গে মিলে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটির দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে—একটি প্রযুক্তিগত দিক: ফিজিবিলিটি স্টাডি শতভাগ সঠিক ও কার্যকর কি না, এবং আরেকটি আর্থিক দিক: এত বড় বিনিয়োগ চীন সরকারের জন্য টেকসই হবে কি না।

এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বর্তমান অবস্থা, জীবনযাত্রার সংকট এবং দীর্ঘদিনের দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেন। কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ ও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান। তিস্তা পাড়ের স্থানীয় আকবর আলী বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত আজকে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষ নিশ্চিত জীবন পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া ভাঙনের শিকার কিছু বাসিন্দা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনছে; বাস্তবায়ন এখনও দেখতে পাননি। এদিনের এই উচ্চপর্যায়ের সফর তাদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে। তারা আশা করেন, এবার তাদের কষ্টের অবসান হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও বদলে যাবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেখানে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এই বৈঠকে দুই দেশই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়