ঢাকা ও শহরতলীর রুটের বাসে চড়তে হবে ই-টিকেট কেটে
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ও শহরতলীর রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে এখন থেকে যাত্রীদের ই-টিকেট কেটে চড়তে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই পদ্ধতি পুরোদমে চালু করা হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন শোনান ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রুটের পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আরবানমুভ টেক ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম চালু করা হবে জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও পুলিশ প্রশাসন এই কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকি করবে।
২০২৫ সালে ৬৪৫ সংখ্যালঘু ঘটনার ৭১টিই সাম্প্রদায়িক
এ পদ্ধতিতে সাধারন পালনীয় কিছু বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
১. সকল বাস নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী তুলবে এবং নামাবে।
২. সকল যাত্রীকে অ্যাপ অথবা ডিভাইসের মাধ্যমে ই-টিকেট সংগ্রহ করে গাড়িতে ভ্রমণ করতে হবে।
৩. এ পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হবে না। ছাত্রদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে আগের মতই।
ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আরবানমুভ টেক নামের একটি কোম্পানি।
সাইফুল আলম বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে রাস্তায় যানজট কমবে, অসম প্রতিযোগিতায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে, দুর্ঘটনা কমিয়ে যাত্রী সাধারণের চলাচলে নিরাপত্তা, আরাম, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং রাস্তায় গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।"
সাইফুল আলম বলেন, “ঢাকা শহর ও শহরতলী রুটে চলাচলরত বাস সার্ভিস গত ১৬ বছর যাবত চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলাচল করছে। যাত্রী ওঠা-নামার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ না থাকা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন না হওয়া, গাড়ি চলাচলে বৈধ রুট পারমিট না থাকা, গাড়ির চালকদের বৈধ লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও বিড়ম্বনা এবং মাসিক বা দৈনিক বেতনে গাড়ি চলাচলের পরিবর্তে কন্ট্রাক্ট পদ্ধতিতে চালকদের গাড়ি পরিচালনা করতে দেওয়ার মত নানা সমস্যা বিরাজমান। ফলে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া অসম প্রতিযোগিতায় গাড়ি চালানোর কারণে রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় প্রতিটি গাড়ি লক্কর-ঝক্কর, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।”
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এবং পরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা, যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন, দুর্ঘটনা কমানো ও দৃষ্টি নন্দন পরিবহন ব্যবস্থাপনা করার লক্ষ্যে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং ডিএমপির ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগহ যৌথ উদ্যোগে ই-টিকেটিং ও কাউন্টার পদ্ধতিতে ঢাকা শহর ও শহরতলীর বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ঢাকা ও মানিকগঞ্জ, হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিক, পরিবহন কোম্পানি ও প্রশাসনের সঙ্গে আট মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা সভা, কাউন্সেলিং সভা ও মতবিনিময় করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








