‘নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিদেশিদের অন অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত’
ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত আগমন ঠেকাতে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
ভিসা স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় দেশে একটি সংবেদনশীল পরিবেশ বিরাজ করে। এ সময় অনেকেই, যারা আমাদের কাছে কাম্য নয়, হুট করে দেশে এসে হাজির হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা এই সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে আমরা ভিসা সেবা পুরোপুরি বন্ধ করছি না। যাদের বাংলাদেশে আসার যৌক্তিক কারণ বা উদ্দেশ্য ঠিক থাকবে, তারা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ভিসা নিয়ে আসতে পারবেন। আমরা শুধু ‘অন অ্যারাইভাল’ বা বন্দরে পৌঁছে তাৎক্ষণিক ভিসা নেওয়ার সুবিধাটি স্থগিত করেছি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সব বাংলাদেশি দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, মূলত নিরাপত্তা ইস্যু এবং বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে ভিসা প্রদান সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এটি নির্বাচনের পরে চালু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। আমাদের মিশনের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী সরকার বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন ঘিরে বিদেশিদের ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নির্দেশনা
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন।
সৌদি আরবে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমরা একটি স্বাভাবিক ও উন্নত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আরও কিছু কাজ বাকি আছে, যা পর্যায়ক্রমে জানানো হবে।
গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টা স্পষ্ট বার্তা দেন।
তিনি বলেন, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, কেবল প্রাথমিক আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ সেখানে সৈন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, আমরা সরাসরি যুদ্ধ করতে যাব না। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে বাংলাদেশ কোনো ফোর্স পাঠাবে না।
মিয়ানমার সীমান্ত সংঘাত নিয়ে তিনি জানান, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়মিত প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির সবশেষ মুহূর্তের তথ্য দিতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে সরকারের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় বিস্তারিত তথ্য তার ফেরার পর জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি বাহরাইনে একটি বাসায় প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ব্যালট গণনার ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আমি জানি।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








