News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রান্সকমের সিইও সিমিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ট্রান্সকমের সিইও সিমিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

নিজের ভাইবোনকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর দুই আসামি হলেন মরহুম শিল্পপতি লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার ছয় আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক ও আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমান ও সামসুজ্জামান পাটোয়ারী আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় এবং তিন আসামি অনুপস্থিত থাকায় তারা এখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। পুলিশ যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করতে পারবে।

এই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান গত ১১ জানুয়ারি আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাইবোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার হস্তগত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ছয়জন হলেন সিমিন রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারী এবং লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান।

মামলার তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দেখানো হয়। ওই মিটিংয়ের এজেন্ডায় ছিল আগের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন এবং লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ: জয়-পলকের বিচার শুরু

তদন্তে দেখা যায়, ওই বোর্ড মিটিংয়ের হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ের তৃতীয় অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন মোট ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়।

তবে বাদীপক্ষের দাবি, ২০২০ সালের ১৩ জুন এ ধরনের কোনো বোর্ড মিটিং আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ওই দিনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের নথিপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলেও আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল, ডাকযোগে পাঠানো নোটিশ বা চিঠির কপিও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র ২০২০ সালের ১৩ জুন আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে তা বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। কেবল আসামিপক্ষের হয়ে একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিমিন রহমান ২০২০ সালে ভাইবোনদের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট ও কোম্পানির নথিপত্র তৈরি করেন। তিনি দুটি ভুয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প অ্যাফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে বাবা, ভাই, বোনসহ সংশ্লিষ্টদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ট্রান্সকমের অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে হস্তান্তরের দলিল প্রস্তুত করেন এবং সেগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন।

শাযরেহ হকের নামে দাখিল করা ওই অ্যাফিডেভিটে ব্যবহৃত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

তদন্তে আরও উঠে আসে, যে স্ট্যাম্প ভেন্ডরের কাছ থেকে ওই স্ট্যাম্প সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়, তার লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়েছিল। ওই ভেন্ডর ২০২৩ সালে সৃষ্ট স্ট্যাম্প অসদুপায়ে সংগ্রহ করে ২০২০ সালের ৩ মার্চ তারিখ দেখিয়ে সরবরাহ করেন।

এই মামলার সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, যখন লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, অপর একটি মামলায় পুলিশের দেওয়া অব্যাহতির সুপারিশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের করা নারাজি আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। 

এ বিষয়ে বাদীপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হবে।

শুনানিতে বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মোসলেহ উদ্দিন জসিম, মনির হোসেন ও আমিনুল হক অংশ নেন। 

অপরদিকে, আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন মোল্লা সবুজ, খোরশেদ আলম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়