News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১৩ মে ২০২৬
আপডেট: ১৯:৩৫, ১৩ মে ২০২৬

তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর ছক ট্রাম্পের

তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর ছক ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রকাশ্য ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মঙ্গলবার (১২ মে) উচ্চপর্যায়ের এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরের পথে থাকাকালীন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ভেনেজুয়েলার একটি বিতর্কিত মানচিত্র পোস্ট করেন তিনি। ওই গ্রাফিক্সে ভেনেজুয়েলার মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকার নকশা সংবলিত ‘৫১তম স্টেট’ লেখাটি স্পষ্ট দেখা যায়। 

ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক পোস্ট এবং সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশের ঠিক একদিন আগে গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঙ্গরাজ্য করার পরিকল্পনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের ওপর মার্কিন অংশগ্রহণ ও তেল কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি বাড়ছে। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযান ‘সামরিক দক্ষতার অসাধারণ উদাহরণ’ এবং দেশটি এখন আগের তুলনায় ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের একদিন আগেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তাদের দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো চিন্তা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার অংশ হিসেবে দেশটির খনিজ ও তেল খাত বিদেশি, বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানির জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে গোপন হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

এদিকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেও অন্তর্বর্তী সরকার এখনো নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণা করেনি। 

ডেলসি রদ্রিগেজ এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচন ‘কোনো এক সময়’ অনুষ্ঠিত হবে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আবার কিছুটা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করে এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি উপদেষ্টারা ভেনেজুয়েলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় যুক্ত আছেন, যেখানে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেশটির জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বিষয়ক বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার ও জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নৌযান লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। যদিও আইনগতভাবে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে কংগ্রেসের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি প্রয়োজন, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা ইস্যু এখন শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি, আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়