নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ১৩ মে ২০২৬

আ.লীগ সরকারের ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছি: তথ্যমন্ত্রী

আ.লীগ সরকারের ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছি: তথ্যমন্ত্রী

কথা বলছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা বহন করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতির ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

বুধবার (১৩ মে) উত্তরায় মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একসময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতিবছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। রেমিট্যান্স থেকে আমাদের আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর, আমাদের ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয়।’

অতীতের সরকারের লুটের দায়দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে এই সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সব ভোটারকে সজাগ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়ে কেউ আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।’

আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও নানা বর্ণের মানুষ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোনো সংঘাত ও বিরোধ তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। এর মধ্যে একটা বড় বিরোধ হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আমরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্কবিতর্ক করছি এবং তর্কবিতর্ক আমরা আরও করব। কারণ, গঠনমূলক তর্কবিতর্কের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক সমালোচনা যেন কেউ রাজপথে নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব না। আমাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক-ধর্মীয় জীবন অব্যাহত রাখতে পারব না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়