News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০৭, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৯২ বিচ্ছিন্নতাবাদীসহ নিহত ১২৫

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৯২ বিচ্ছিন্নতাবাদীসহ নিহত ১২৫

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ভারতের সমর্থিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এক সমন্বিত হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অভিযানে অন্তত ৯২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। হামলায় ১৮ বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দলবন্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, তুম্প, গওয়াদর ও পাসনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। 

আইএসপিআর-এর দাবি অনুযায়ী, ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ (এফএএইচ) নামক সংগঠনের সন্ত্রাসীরা এই পরিকল্পিত নাশকতা পরিচালনা করে। এসব হামলায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ ১৮ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। মূলত গওয়াদর ও খারানে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করাই ছিল হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য।

বিপরীতে, নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে বিএলএ-এর দাবি অনুযায়ী, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

হামলার পরপরই পুরো প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ শুরু করে। অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সাথে পরিচালিত এই অভিযানে ৩ জন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ মোট ৯২ জন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়। বর্তমানে এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করা ও গ্রেপ্তার করা। 

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইএসপিআর দাবি করেছে, এই হামলার নির্দেশনা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত সন্ত্রাসী নেতাদের কাছ থেকে এসেছিল এবং তারা অভিযানের পুরো সময় মাঠ পর্যায়ের হামলাকারীদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।

সশস্ত্র হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য দপ্তর। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়