News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনে শীর্ষে বাংলাদেশ

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনে শীর্ষে বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

২০২৫ সালে অবৈধ ও অনিয়মিত পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধান ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশিরা প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পর মিসরীয় ও আফগান নাগরিকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্তের সংখ্যা অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা কমেনি বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম প্রধান প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয়তা। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার দেশ মিসর এবং এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান।

ফ্রন্টেক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছে। মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম ও সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো হলেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।

ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা প্রধানত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূলে পৌঁছানো এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে প্রবেশের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন।

সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ, দেশে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং বিদেশে তুলনামূলক ভালো আয়ের প্রত্যাশা প্রধান। মানবপাচার চক্রগুলো এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে অনেককে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন ভিসায় ‘ভিসা বন্ড’ বাধ্যতামূলক, তালিকায় বাংলাদেশ

ফ্রন্টেক্সের মতে, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। আয় বৃদ্ধির সুযোগের অভাব এবং চাকরির সংকট অনেককে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই অভিবাসন নতুন কোনো প্রবণতা নয়। গত কয়েক বছর ধরেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফ্রন্টেক্সের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি শনাক্ত হয়েছে। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে, তবুও বাংলাদেশিদের এই বিপজ্জনক যাত্রার প্রবণতা হ্রাস পায়নি। এই তালিকায় বাংলাদেশের পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিসর ও আফগানিস্তান। মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এবং আফগানরা স্থল ও সমুদ্র—উভয় পথ ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা ইউরোপে পৌঁছাতে মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সহায়তায় তারা ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। লিবিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং মানবপাচারকারীদের প্রলোভন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

ফ্রন্টেক্স তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম এবং সমুদ্রপথে কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও এই পাচারকারী চক্রগুলো বাংলাদেশিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে প্রলুব্ধ করছে।

সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হলেও বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স।

সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এই গণ-অভিবাসনের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ। দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং বিদেশে গিয়ে দ্রুত ও বেশি আয়ের প্রত্যাশাকেই বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক বাস্তবতাই অনেককে জীবন বাজি রেখে অনিয়মিত পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে। এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে মানবপাচার চক্রগুলো ইউরোপে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা নতুন নয়; গত কয়েক বছর ধরেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। তবে ২০২৫ সালে এসে এই হার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রন্টেক্স মনে করছে, ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও আইনি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত সীমিত। ফলে সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়