কুনার নদীর পানি সরাচ্ছে তালেবান, বিপাকে পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের পানিসংকট আরও গভীর আকার ধারণ করতে চলেছে। একদিকে ভারত সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ সীমিত করে ইসলামাবাদকে চাপের মুখে ফেলেছে, অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কুনার নদীর পানি নানগারহার অঞ্চলের দারুন্তা বাঁধে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আফগানিস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থনৈতিক কমিশনের কারিগরি কমিটি কুনার নদীর পানি নানগারহার অঞ্চলে পুনঃনির্দেশের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের বিশাল কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে, কিন্তু এর প্রভাব পাকিস্তানের জন্য বিপর্যয়কর হবে।
কুনার নদী পাকিস্তানের জন্য একটি ‘লাইফলাইন’। হিন্দু কুশ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন এই নদী প্রথমে পাকিস্তানের চিত্রাল ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, এরপর আফগানিস্তানে গিয়ে পুনরায় পাকিস্তানের সিন্ধু নদীর সাথে মিলিত হয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের সেচ, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস কুনার নদী।
আরও পড়ুন: হিন্দুকুশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপলো আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তাহলে খাইবার পাখতুনখোয়ার কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো অকেজো হয়ে পড়লে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সিন্ধু পানিচুক্তি থাকলেও আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি নেই। ফলে আফগানিস্তানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনি পথে প্রতিহত করা ইসলামাবাদের জন্য এখনই সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ভারত সিন্ধু নদীর পানি সীমিত করার কারণে পাকিস্তান পানি সংকটে ভুগছে। এবার আফগানিস্তানের এই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে পূর্বের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও বেড়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আফগানিস্তানের নানগারহারের কৃষিজমি রক্ষার নামে নেওয়া এই ডাইভারশন প্রকল্প শেষ পর্যন্ত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








