মডেলিং আমার কাছে পেশা: রাজ ম্যানিয়া
রাজ ম্যানিয়া। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ফ্যাশন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে যেসব মুখ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ একটি পরিচিত নাম। তবে তিনি রাজ ম্যানিয়া নামেই বেশি পরিচিত। আলোচনার চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দেওয়া এই মডেল শুরু করেছিলেন একেবারে নিচ থেকে- ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট হিসেবে। ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ফ্যাশন হাউজ, র্যাম্প ও ফটোশুটের দুনিয়ায়।
মাহফুজের মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে। সে সময় বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনে তিনি কাজ করেন ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট হিসেবে। তখন কেউ চিনতো না, সামনে আসার কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। কাজ করতে গিয়েছিলাম অভিজ্ঞতার জন্য, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে অভিনয় বা মডেলিং তার স্বপ্ন ছিল এমন নয়। বরং ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে গিয়েই ভাগ্যের চাকা ঘোরে। ওখান থেকেই আমাকে র্যাম্প শো আর ফটোশুটের জন্য রেফার করা হয়। অডিশন দিয়েছি, অনেক জায়গায় বাদও পড়েছি, আবার চান্সও পেয়েছি। এভাবেই ধীরে ধীরে সামনে আসা।
দীর্ঘ এই যাত্রায় সাফল্য আর ব্যর্থতা- দুটোই দেখেছেন তিনি। তবে সেগুলোকে আলাদা করে দেখেন না। মাহফুজ বলেন, ক্লাস ওয়ান থেকে টুতে উঠতেও কষ্ট হয়। পড়াশোনা যেমন কষ্টের, কাজও তেমন। প্রতিটা প্রফেশনেই কষ্ট আছে। এটা ব্যর্থতা না, জীবনের অংশ।
নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ। আমি কারো জায়গা দখল করি না, কারো পেছনে দৌড়াই না। নিজের মতো কাজ করি, কাজ শেষে বাসায় চলে আসি।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া না র্যাম্প- কোনটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য, এমন প্রশ্নে মাহফুজ একদম স্পষ্ট। “যেটাতে টাকা বেশি, সেটাতেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দিনশেষে পয়সা গুরুত্বপূর্ণ। আমার লাইফস্টাইল, ফিটনেস, সংসার— সব কিছুর জন্যই টাকা লাগে।
তিনি মনে করেন, কাজকে গ্ল্যামার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কাজ মানে কাজ। উল্টাপাল্টা কিছু না। ফটোশুট হোক বা র্যাম্প- যেটা আমার সাথে যায়, সেটাই করি। একসাথে অনেক কাজ করার প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নন তিনি। ১০টা কাজ করার দরকার নেই। ২টা ভালো কাজ করলেই যথেষ্ট।
নতুন যারা ফ্যাশন বা মডেলিংয়ে আসতে চায়, তাদের জন্য মাহফুজের পর্যবেক্ষণ বাস্তবভিত্তিক। এখনকার নতুনরা অনেক সুবিধা পাচ্ছে। গ্রুমিং স্কুল আছে, অপশন আছে। আমাদের সময় এতটা ছিল না। তখন হাতে গোনা কয়েকটা গ্রুমিং স্কুল ছিল।
তিনি বলেন, এখন যারা গ্রুমিং স্কুল চালাচ্ছেন, তারা নিজেরাও মিডিয়াতে ভালো অবস্থানে আছেন। নতুনদের জন্য সুযোগ এখন বেশি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে খুব বেশি নির্ভরশীল হওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গে মাহফুজ বলেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে হাইপ তুলছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ পাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হয়ে গেলে তাদের ক্যারিয়ারে সমস্যা হবে। আমাদের হবে না, কারণ আমাদের মূল শক্তি কাজ।
তার মতে, ভালো কাজ আর ভালো ছবি- এগুলোর মধ্যেই আত্মার শান্তি। “কাজ এলে করি, পেমেন্ট নেই, বাসায় যাই। এরপর কে কোথায় ডাকলো না ডাকলো, সেটা নিয়ে ভাবি না।
সিনেমা নিয়ে তার ভাবনা বেশ পরিষ্কার। তিনি বলেন, “ইচ্ছা থাকলেই তো হবে না। আমাকে নিয়ে সিনেমা বিক্রি হবে কি না, সেটাই আসল কথা। এখন সিনেমা করলে হলে চলবে না, ফ্লপ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রযোজক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আমার নামও ফ্লপের খাতায় যাবে। এরপর কে আমাকে ডাকবে? তবে ভবিষ্যতে সিনেমা করবেন না- এমন নয়। যখন নায়ককেন্দ্রিক গল্প হবে, যখন মানুষ আমাকে চিনবে, হলে গিয়ে আমার ছবি দেখবে তখন সিনেমা করবো।
কাজের দিক থেকে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ দেশের প্রায় সব বড় ফ্যাশন হাউজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। আড়ং, ফ্রিল্যান্ড, লেরীভ, ইয়োলো, অঞ্জনস, কে ক্রাফট, ক্যাটসআই ,মনসুনরেইন,নাবিক, অনন্ত, রিচম্যান, লুবনান মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক এর বেশি র্যাম্প শো এর কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: আসছে ঢাকাই সুপারস্টারের নতুন প্রেমের গল্প, সঙ্গী হানিয়া
তিনি বলেন, টিভিসিতে কাজ তুলনামূলক কম। টিভিসিতে বাজেট কম, পেমেন্টও কম। তাই মাত্র ২-৩টা টিভিসিতে কাজ করেছি। তবে প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের ওভিসিতে ফটোশুটের অংশ হিসেবে কাজ করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান- প্রশ্নটা শুনে তিনি মুচকি হেসে বলেন, ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ডিনার করতে চাই। মজা করলেও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তববাদী। এই দেশে ফ্যাশন সচেতনতা কম। ফ্যাশন নিয়ে আলাদা করে কোনো আলোচনা নেই। এতদিন কাজ করেও অনেকের কাছে আমি অচেনা। সব মিলিয়ে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ রাজ ম্যানিয়ার গল্পটা গ্ল্যামার বা স্বপ্নের গল্প নয়। এটা ধৈর্য, বাস্তবতা আর নিজের অবস্থান বুঝে এগিয়ে চলার গল্প- যেখানে কাজই শেষ কথা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








