News Bangladesh

বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

সিঙ্গেল মাদার থেকে বড় পর্দার নায়িকা কেয়া আল জান্নাহর যাত্রা

সিঙ্গেল মাদার থেকে বড় পর্দার নায়িকা কেয়া আল জান্নাহর যাত্রা

কেয়া আল জান্নাহ। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বড় পর্দায় অভিষিক্ত হয়েছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত মডেল কেয়া আল জান্নাহ। ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি জগতে পা রেখেই নিজের অভিনয়শৈলীর জন্য দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মুক্তি পাওয়া ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। 

আহমেদ হাসান পরিচালিত এই ছবিতে তার সাবলীল অভিনয় এবং পর্দার উপস্থিতি এরই মধ্যে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রে সফলতার পর বড় পর্দার এই যাত্রা এবং তার ব্যক্তিজীবনের নানা চড়াই-উতরাই নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে কেয়া আল জান্নাহ তার জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা গল্প শেয়ার করেন। সেখানে তিনি জানান, বিনোদন অঙ্গনে কাজের ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে পরিবারিক সহযোগিতা। 

তিনি বলেন, আমি একজন সিঙ্গেল মাদার। আমার ছেলের বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। ছেলেকে বড় করার ক্ষেত্রে আমার পরিবার অসাধারণ সহযোগিতা করেছে। শুটিংয়ে যাওয়ার সময় আব্বা-আম্মা, ভাই-বোন, ভাবির কাছে ছেলেকে রেখে যেতে হয়। এই সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় শক্তি।

কেয়া আরও বলেন, তার পরিবারের কেউই বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেননি। তাই সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তার সংগ্রামটা আলাদা। শুটিংয়ের কারণে ঢাকার বাইরে কয়েক দিন থাকতে হয়, তাই ছেলেকে বুঝিয়ে কাজ করতে হয়। তবে কয়েক বছরের অভ্যাসে তার ছেলে বুঝে গেছে, তার মা কাজ করে, শুটিংয়ের কারণে কয়েক দিন ঢাকার বাইরে থাকতে হয়।

কেয়া আল জান্নাহ বলেন, আমি মূলত বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। কাস্টিং ডিরেক্টরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। বিভিন্ন কাজের আগে তারা আমাকে ডেকে নেন।

তিনি জানান, আহমেদ হাসানের অফিসে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের অডিশন দিতে গিয়েছিলেন, যদিও কাজটি হয়নি। কিন্তু তার অভিনয় কাস্টিং টিমের কাছে ভালো লেগেছিল, যা পরে সিনেমার জন্য তার ডাকের কারণ হয়।

সিনেমার অডিশনে তিনি দেখেন, তার মতো বা তার চেয়ে অভিজ্ঞ অনেক অভিনয়শিল্পীও উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি বলেন, তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, আমি কেন এসেছি, আমার তো টিকে থাকারই কথা নয়। তারপরও টানা তিন দিন তিনবার অডিশন নেওয়া হয়। তখনই তার মনে হয়, নিশ্চয়ই কিছু একটা হতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সমুদ্রের নীল জলে পরীমণির অবকাশ, ফিরছেন শুটিংয়ে

সিনেমায় চূড়ান্ত হওয়ার পর কেমন লাগল—এ প্রসঙ্গে কেয়া বলেন, সত্যি বলতে, সুযোগ পাওয়ার পর একেবারেই বাক্‌রুদ্ধ ছিলাম। আমার মনে হয়েছে, সানিদের টিমটা পড়ুয়া, জানাশোনাও ভালো। তাই এই টিমের সঙ্গে কাজ করলে কিছু শেখা যাবে।

তিনি বিশেষ করে অভিনয়শিল্পী পাভেল ভাই (আজাদ আবুল কালাম)কে কিংবদন্তিতুল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলাও অনেক বড় পাওয়া। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়ের ক্লাস ও কর্মশালা করান। তার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগে শুটিংয়ের ফাঁকে বই, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে, যেন আমার জন্য একটা কর্মশালাই হয়ে গেল। মাত্র চার দিনে একটা দারুণ শিক্ষাসফর হয়েছে।

কেয়া আরও বলেন, সেতু (এ কে আজাদ) ভাই ও বর্ষণ (ইমতিয়াজ) ভাইয়ের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। এ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি, কীভাবে চরিত্রে ঢুকতে হয় আবার কীভাবে চরিত্র থেকে বের হতে হয়। এ জায়গাটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

কেয়া আল জান্নাহ জানান, অভিনয় নিয়ে তার পরিকল্পনা হচ্ছে ভয়েস মডিউলেশন নিয়ে কাজ করা। 

তিনি বলেন, শুক্রবার সিনেমা দেখার পর বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আমি সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে বসে সিনেমাটা দেখেছি। তখন কিছু দর্শক সরাসরি বলেছিলেন, ছবিটা ভালো, শিল্পী বাছাইও ভালো হয়েছে, তবে আমার চরিত্রটা তাদের মতে জমেনি। তাদের মতে, কণ্ঠে সমস্যা ছিল।

এই প্রতিক্রিয়া শুনে তিনি নিজেকে উন্নতির জায়গা দেখেন। 

তিনি বলেন, আমার কণ্ঠটা একটু বেশি চাইল্ডিশ শোনাচ্ছিল। যদিও চরিত্র অনুযায়ী সেটাও এক অর্থে মানানসই ছিল।

কেয়া আরও জানান, এর আগে বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচারের পর অনেকেই বলেছিলেন, তার “দুঃখী দুঃখী চেহারাটা ভালো লাগে।”

সব মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন গল্পে কাজ করবেন যেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকবে এবং আবেগ এক্সপ্লোর করা যাবে।

বাংলাদেশে প্রিয় অভিনেত্রী সম্পর্কে কেয়া আল জান্নাহ বলেন, জয়া আহসানকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। তার অভিনয় খুব সহজাত। 

তিনি উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে পিপলু আর খান ভাইয়ের বানানো ‘জয়া আর শারমীন’ দেখেছেন। 

তার মতে, চরিত্রটা জয়া আহসান ছাড়া অন্য কেউ করতে পারতেন না।

তিনি বলেন, তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সে চরিত্রই হয়ে ওঠেন। আমার কাছে মনে হয়, তিনি অভিনয় করছেন না, তিনি চরিত্রটায় বাঁচছেন।

কেয়া আল জান্নাহ জানান, তিনি বর্তমানে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। এটি উৎসবের জন্য নির্মিত হচ্ছে। সালজার আহমেদ পরিচালিত ছবিটির নাম ‘বোবা’। প্রায় ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিতে তিনি একমাত্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

কেয়া আল জান্নাহ তার বিনোদন অঙ্গনে শুরু সম্পর্কে বলেন, ২০১৬ সালে লালমাটিয়া কলেজে বিবিএ থার্ড ইয়ারে পড়ার সময় আগ্রহ থেকে সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং সেরা দশে জায়গা করে নেন। কয়েক বছর পর স্টিল ফটোশুটের মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনচিত্রে আসেন।

তিনি জানান, তার প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্র ছিল আদনান আল রাজীবের সঙ্গে ‘দেশাল’-এর একটি বিজ্ঞাপন, সম্ভবত ২০২১ বা ২০২২ সালে।

কেয়া আল জান্নাহ বলেন, অভিনয় আমার প্যাশন। এখন আমি এটা খুব ভালোবাসা ও গুরুত্ব দিয়ে করছি। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে চাই। অভিনয়কে পুরোপুরি পেশা হিসেবে নিতে চাই। এমন কাজ করতে চাই যেন মানুষের মুখে মুখে আমার নাম থাকে—এটাই আমার স্বপ্ন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়