আবারও উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উত্তরার আজমপুর ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বাড়লেও তাদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে সীমিত বেতনে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানো এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে তারা সড়কে নেমেছেন।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এর আগে বুধবারও (১৪ অক্টোবর) একই দাবিতে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে বিক্ষোভ ও অবরোধ বিমানবন্দর সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষককে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
শ্রমিকনেতা আবদুল বারেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন জীবন-জীবিকার ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির চাপে অল্প বেতনে শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
তার মতে, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির পেছনেও রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের অসংগতির বাস্তবতা।
এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে বলে জানিয়েছেন উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো দুই বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








