জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরে সপরিবারে স্কুলশিক্ষক হত্যা, সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত

রংপুরে সপরিবারে স্কুলশিক্ষক হত্যা, সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামতের নমুনার মিল পাওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় খেজুর, শসা ও সিগারেটসহ অন্যান্য আলামতের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রংপুর কারাগার থেকে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে তাদের ডিএনএর সঙ্গে পাঠানো বিভিন্ন আলামতের নমুনার মিল পাওয়া যায়।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খেজুর, শসা ও সিগারেটসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে আসামিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়েছে। এসব পরীক্ষার ফল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিআইডি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি। ঘটনার ১২ দিন পর তিন দফায় এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আলামতগুলোর মধ্যে ছিল ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন উপকরণ।

এর আগে, হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: জার্মান তরুণের চুরি হওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরার সন্ধান মেলেনি 

এ ঘটনায় আসামিদের বন্ধু সীমান্ত দাস, দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ মোহন্ত এবং মাদক সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়