নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ৭ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৫:৪১, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনার পর ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে পচন ও রক্তক্ষরণ

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনার পর ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে পচন ও রক্তক্ষরণ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিনা মূল্যে সুন্নতে খতনা কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। খতনা করানোর দুই দিনের মাথায় দ্বীপের অন্তত ৫০ জন শিশুর ক্ষতস্থানে তীব্র সংক্রমণ (ইনফেকশন) ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুরো দ্বীপজুড়ে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (০৪ অক্টোবর) সেন্ট মার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম এই কার্যক্রমে অংশ নেয়। ওই দিন দ্বীপের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ২১০ জন শিশুকে সুন্নতে খতনা করানো হয় এবং শেষে তাদের কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ক্যাম্প শেষ হওয়ার পরপরই মেডিকেল টিমটি দ্রুত সেন্ট মার্টিন ত্যাগ করে।

খতনার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পিরিয়ড পার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সকাল থেকে হঠাৎ করেই শিশুদের অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। একে একে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু তীব্র ব্যথা, ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, পুঁজ জমা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের উপসর্গ নিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই চিকিৎসাসেবায় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগত শিশুদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামের দুই শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়। 

তবে দ্বীপের অসহায় ও দরিদ্র অভিভাবকদের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং ট্রলার সংকটের কারণে মুমূর্ষু শিশুদের সময়মতো মূল ভূখণ্ডে বা টেকনাফ হাসপাতালে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বামী আতিকুলের মৃত্যুদণ্ড

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিভাবকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, ফ্রি চিকিৎসার কথা বলা হলেও নানা অজুহাতে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। গণহারে তাড়াহুড়ো করে খতনা সম্পন্ন করায় স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত সতর্কতা যথাযথভাবে মানা হয়নি। অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি বা অপরিকল্পিত সেলাইয়ের কারণে এই ইনফেকশন হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক পর্যালোচায় মনে হচ্ছে কাজটিতে যথেষ্ট তাড়াহুড়ো ছিল। ক্ষতস্থানে যে পরিমাণ ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করার প্রয়োজন ছিল, তা ঠিকমতো করা হয়নি; যার ফলে এই ঘাটতি থেকে রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও মেডিকেল টিম গঠনএদিকে ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেন্ট মার্টিনে এ ধরনের একটি বড় চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প বা গণখতনা কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত ও আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, খতনা করানোর পর শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। আয়োজক মেডিকেল টিমের কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

অন্যদিকে অভিযুক্ত মেডিকেল টিমের প্রধান বা আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়