শিশুর ফিডার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার সঠিক নিয়ম
প্রতীকী ছবি
শিশুকে ফিডারে দুধ খাওয়ানো হলে বোতল ও নিপল ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম থাকায় অপরিষ্কার ফিডার থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিশুকে নিরাপদ রাখতে প্রতিবার ব্যবহারের পর ফিডার সঠিকভাবে পরিষ্কার ও নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন।
শুধু পানি দিয়ে ফিডার ধুয়ে ফেললেই তা জীবাণুমুক্ত হয় না। বোতল ও নিপল ভালোভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করাও জরুরি। অপরিষ্কার ফিডারের মাধ্যমে শিশুদের ডায়রিয়া, বমিসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, প্রতিবার শিশুকে খাওয়ানোর পর বোতল পরিষ্কার করা উচিত। শিশু দুই ঘণ্টার মধ্যে দুধ শেষ না করলে অবশিষ্ট ফর্মুলা ফেলে দিতে হবে। ব্যবহৃত বোতলে নতুন করে বুকের দুধ বা ফর্মুলা যোগ করা কিংবা বোতল ভালোভাবে পরিষ্কার না করে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হলে জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
জীবাণুমুক্ত করার আগে যা করবেন
শিশুকে খাওয়ানোর পরপরই বোতল, নিপল ও অন্যান্য সরঞ্জাম গরম সাবান পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। বোতল পরিষ্কারের জন্য আলাদা ও পরিষ্কার বোতল ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। নিপলের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে ছোট নিপল ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এরপর জীবাণুমুক্ত করার আগে সব সরঞ্জাম পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
ডিশওয়াশারেও শিশুর ফিডার পরিষ্কার করা যায়। তবে ডিশওয়াশারে দেওয়ার আগে বোতল, নিপল ও ঢাকনা আলাদা করে নিতে হবে। পরিষ্কার করার পর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে ডিশওয়াশারে পরিষ্কার করলেই সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে জীবাণুমুক্ত করা জরুরি।
ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফুটিয়ে শিশুর দুধের বোতল জীবাণুমুক্ত করা যায়। তবে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, ব্যবহৃত বোতল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ফুটানোর উপযোগী কি না।
একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে বোতল, নিপল ও ঢাকনা সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবিয়ে দিতে হবে। এরপর অন্তত ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। সময় ঠিক রাখতে টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বারবার ফুটানোর ফলে কিছু বোতলের ছিপি বা অন্যান্য অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ফাটল, চিড় বা অন্য কোনো ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলে সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।
সময় ও শ্রম বাঁচাতে বাজারে পাওয়া উপযুক্ত স্টেরিলাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসে কি না বুঝবেন যেভাবে
শিশুর ফিডার সঠিকভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা সহজ একটি অভ্যাস। নিয়ম মেনে এটি করা হলে ক্ষতিকর জীবাণু ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং শিশুকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








