News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোহাম্মদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জনজীবনে ফিরছে স্বস্তি

মোহাম্মদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জনজীবনে ফিরছে স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুর ও আদাবরে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলমান বিশেষ এই সাঁড়াশি অভিযানে চিহ্নিত চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটতে শুরু করেছে। 

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জেনেভা ক্যাম্প ও কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪২ জনকে গ্রেফতার করার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ গত তিন দিনে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।

মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার ফেরদৌস জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় কৃষি মার্কেট, জেনেভা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, আদাবর থানার ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ সোহেল বলেন, তাদের এলাকায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্য এবং কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। 

মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী সুজন বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখা ভয়ের বিষয় ছিল। পুলিশের টহল বাড়ানোর পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। 

আদাবরের রিয়াজুলও বলেন, গতকালকের অভিযান জনমনে স্বস্তি এনেছে। আশা করি এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন সময়ে রাতে রাস্তায় টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান রাখা হচ্ছে। 

মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার চান মিয়া বলেন, আগে প্রায়ই চাঁদাবাজদের উৎপাত থাকত। এখন নিয়মিত টহল দেওয়ায় ব্যবসায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর-আদাবরে মধ্যরাতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক শতাধিক

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত রাখতে কাজ চলছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয়দেরকে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি আলাদা ঘটনা হিসাবে, গতকাল রাতে রিয়াজ নামে এক যুবককে জেনেভা ক্যাম্প থেকে চাপাতিসহ আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে সন্দেহ করে পুলিশের কাছে খবর দেয়। এছাড়াও, বসিলায় এক দোকানীকে অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়। অভিযানে চিহ্নিত চাঁদাবাজকে আটক করে এলাকায় পরিচয় করিয়ে দিয়ে জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হয়।

মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা জানান, গত রাতেও বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। জেনেভা ক্যাম্প ও কৃষি মার্কেট এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। কয়েক দিনের অভিযান শেষে মানুষজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিশেষ করে জেনেভা ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার ইফতারের পর ২ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য অভিযান চালায়। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ, সোয়াট টিম ও প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক এবং মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এভাবে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, নিয়মিত টহল এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় অপরাধ কমছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়