News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:০২, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নরসিংদীতে কিশোরী হত্যার নেপথ্যে ‘সালিশি বাণিজ্য’

নরসিংদীতে কিশোরী হত্যার নেপথ্যে ‘সালিশি বাণিজ্য’

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে বাবার সামনে থেকে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও বখাটেদের রোষানলে পড়া পরিবারটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের সন্তানকে হারিয়েছে। 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক স্থানীয় নেতার ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত নূরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের তথ্য ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত কিশোরী বরিশাল জেলার বাসিন্দা হলেও বাবার চাকরির কারণে মাধবদীতে ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। দুই সপ্তাহ আগে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় যুবক নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনায় স্থানীয় কিছু নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড মেম্বারের হস্তক্ষেপ থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কিশোরীর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং এলাকায় থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, মূল অভিযুক্ত নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবায়দুল্লাহ এবং হোসেন বাজার এলাকার গাফফার রয়েছেন। 

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, মূল অভিযুক্ত নূরাকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক রেজাউল করিম মল্লিক মাধবদী পরিদর্শন করে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। 

আরও পড়ুন: ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৫

তিনি জানান, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চারজনকে আসামি করা হয়েছে এবং সালিশকারীর হিসেবে আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আগে থানায় অভিযোগ করলে হয়তো এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার ও স্থানীয় কিছু নেতার মাধ্যমে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতার কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছিলেন। তবে অভিযুক্তরা শাসক ও স্থানীয় নেতাদের আশ্রয় নিয়ে বেপরোয়া আচরণ চালিয়ে যায়।

মাধবদী থানার ওসি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরে জেল হাজতে রাখা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দল এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়