পাঁচ ঘণ্টায় আবার কমলো স্বর্ণের দাম
ফাইল ছবি
দেশের বাজারে একই দিনে একাধিক দফায় কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। এরপর সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে আবারও দাম কমানো হয়; সে সময় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। পরে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও এক দফা কমানো হয় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। ফলে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা কমেছে- দেশে এর আগে একদিনে তিনবার দাম পরিবর্তনের নজির নেই।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে সোনার দাম কমলো
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭৪৭ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৫২৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, প্রতিটি স্বর্ণালংকার বিক্রির সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে, যদিও গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের হলমার্ক করা স্বর্ণ যাচাই করে কেনার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
চলতি বছরে দেশের বাজারে এ পর্যন্ত ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১৪ বার দাম বেড়েছে এবং কমেছে ৮ বার। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল- যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছরে ১৫ দফা সমন্বয় হয়েছে; এর মধ্যে ৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৬ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার- ১০ বার বেড়েছিল, কমেছিল মাত্র ৩ বার।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের উচ্চমূল্য ও ধারাবাহিক ওঠানামা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার সঙ্গেই এই সমন্বয় করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








