News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন

এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন

ফাইল ছবি

দেশের জ্বালানি বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আমদানিকারকদের তারল্য সংকট কাটাতে বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ‘ইউজান্স পিরিয়ড’ বা বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিতে তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় জানানো হয়, এখন থেকে এলপিজি আমদানিকারকরাও শিল্প কাঁচামাল আমদানির সমতুল্য ঋণ সুবিধা ভোগ করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা দেশে এনে সিলিন্ডারে বোতলজাত করে বাজারজাত করতে হয়। আমদানির পর এই সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকদের দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ পরিচালন কার্যক্রমের প্রয়োজন হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে এলপিজিকে সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণের (বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট) অধীনে আমদানির জন্য যোগ্য শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলপিজি আমদানিকারকরা এখন থেকে ২৭০ দিন পর্যন্ত বিল পরিশোধের সময় পাবেন, যা আগে অনেক কম ছিল।

আরও পড়ুন: এডিপি থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট, স্বাস্থ্য ও মেগা প্রকল্পে বড় ধাক্কা

নতুন এই নীতিমালার আওতায় আমদানিকারকরা বিদেশের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সরাসরি ট্রেড ক্রেডিট গ্রহণ করতে পারবেন। 

এ ছাড়াও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিমালা ও বিচক্ষণ ঋণনীতির আওতায় বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ বা ক্রেতা ঋণ সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক নির্দেশনার মাধ্যমে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের ইউজান্স সুবিধা প্রদান করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতে এলপিজিকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। 

সম্প্রতি ডলার সংকটের কারণে এলপিজি আমদানিতে আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল ভোক্তা পর্যায়ে। দেশের অনেক জায়গায় নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস না পাওয়া বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত সহায়তার ফলে ডলারের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কমবে এবং আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময় নিয়ে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এতে বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়