News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

‘আগামী সপ্তাহে যাত্রা শুরু করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’

‘আগামী সপ্তাহে যাত্রা শুরু করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে নতুন একটি শক্তিশালী ব্যাংক গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নতুন ব্যাংকটি আগামী সপ্তাহে যাত্রা শুরু করতে পারে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। 

সম্মেলনটি দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন।

গভর্নর বলেন, দেশের অচল ও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রয়োগ করে আমরা পাঁচটি ব্যাংককে একত্রিত করে নতুন ব্যাংক গঠন করছি। এতে সরকারি সাহায্য ও ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকবে, যা দেশের ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ খেলাপি, যা একটি বড় সমস্যা। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫–১০ বছর সময় লাগতে পারে। নতুন ব্যাংক গঠনের মাধ্যমে আমরা ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চাই।

নতুন ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক।

আরও পড়ুন: আমদানিতে কোনো বাধা নেই: গভর্নর

গভর্নর জানান, এই ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এদের আর্থিক অবস্থা কোনো উন্নতি হয়নি এবং তারল্য সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ, ঋণ ও অগ্রিমের হার, প্রভিশন ঘাটতি এবং তারল্য সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমানতকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর সম্ভাবনা না থাকায় নতুন ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেশের মূল্যস্ফীতি, সুদহার এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ১২.৫ শতাংশ হলেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশ মাত্র। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পার্থক্য বেশি নয়।

বাণিজ্যিক নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। বিএসএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোনো কোম্পানি লোকসান করলেও কর দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসার জন্য বিরূপ। 

সিটি ব্যাংকের মাসরুর আরেফিন জানান, বৈষম্য ও অনিয়ম দূর হয়ে এখন ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতি জাতীয় নির্বাচনের পর আরও উন্নত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। এজন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন যেখানে জনগণ অংশগ্রহণ করবে এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নতুন ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে। 

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংক ‘হস্তান্তরকারী ব্যাংক’ এবং নতুন ব্যাংক ‘হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংক’ হিসেবে পরিচালিত হবে।

এদিকে, নভেম্বরের শুরুতে পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসানো হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়