‘তিন দিন ধরে অপরিবর্তিত খালেদা জিয়ার অবস্থা’
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন, তবে সামগ্রিকভাবে অবস্থাকে “স্থিতিশীল হলেও সংকটাপন্ন” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন রাতে সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় কোনো উন্নতি না হলেও তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সর্বাধুনিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও চীনের চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কিডনির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে ধারাবাহিক ডায়ালাইসিস চলছে। শনিবার রাতেও তার ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়েছে। এতে অবস্থার উন্নতি না হলেও কিছুটা স্থিতি এসেছে। শ্বাস–প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কিডনির অবস্থায় স্থিতি না এলে স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ ও খালেদা জিয়ার শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চিকিৎসার দায়িত্ব চিকিৎসকদের, ভালো করার মালিক আল্লাহ। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শনিবার বিকেলে জানান, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো নয়। তবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, শারীরিকভাবে ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই। তবে প্রস্তুতি আছে। তিনি প্রস্তুত হলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন তারেক রহমান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। হাসপাতালের বাইরে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অন্য রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়। বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে আরও প্রায় ৩০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটে, তবে শনিবার রাতে তিনি দুয়েকটি কথা বলেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে অপরিবর্তিত। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অবস্থাকে সংকটাপন্ন বলা হচ্ছে। বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ ও তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। পরিবার ও দলীয় নেতারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রেখেছেন, আর দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








