News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: অর্থ উপদেষ্টা

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: অর্থ উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে জাতীয় বেতন কমিশন। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, বিকাল ৫টায় বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান কমিশনের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় অর্থ উপদেষ্টা নিজেও উপস্থিত থাকবেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পে-স্কেল সুপারিশের ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনটি সরকারি চাকরিজীবীরা পে-স্কেল পেয়ে খুশি হবেন—এমন ধরনের সুপারিশ নিয়ে তৈরি হয়েছে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগ পর্যন্ত এর বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বেতন কমিশনের প্রধান প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটির নানা দিক তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। 

অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা বেতন থাকলেও তা বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৮ বিলিয়ন থেকে দেশের রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন: অর্থ উপদেষ্টা

২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা–কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় গত ১০ বছরে নানা সময় দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা। গত বছরের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেরিতে প্রস্তুত হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিবেদন সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ দিন আগে জমা পড়ছে, যা তিনি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে এটি কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে, তা স্পষ্ট করেননি। 

জানা গেছে, বাস্তবায়ন নির্বাচিত সরকারের সময় থেকে হতে পারে। তবে পরবর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে কিনা তা তাদের এখতিয়ারের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেল সুপারিশের প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের দিকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনের অনেক সদস্য বিদ্যমান গ্রেড সংখ্যা একই রেখে যৌক্তিক হারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করতে চান। তবে কমিশনের অন্য একটি অংশ মনে করেন গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬ করা উচিত।

বেতন কমিশন নতুন পে-স্কেল নির্ধারণের জন্য গত বছরের ১ থেকে ১৫ অক্টোবর চার শ্রেণিতে—সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি—অনলাইনে প্রশ্নমালার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করে। এছাড়া সব মন্ত্রণালয়ের ৭০ জনেরও বেশি সচিবের সঙ্গে চার দফায় মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় মতামত নেওয়া হয়েছে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, আকাশচুম্বী সুপারিশ না করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ভাতা খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার এটি নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি এখনও জানা যায়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়