৫ লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার, কেজিতে বাড়ছে ২ টাকা
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বোরো মৌসুমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ১৩ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র ঠিক করেছে সরকার। গত আমন মৌসুমের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা বাড়ছে বোরোতে। আর আমন ধানে কমছে কেজিতে ১ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি’র সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। গত আমন মৌসুমের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়ে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রতি কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা; সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা; আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে।
গত নভেম্বরে সবশেষ আমন মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা এবং আতপ চাল ৪৯ টাকায় সংগ্রহ করেছিল সরকার।
এবার বোরো মৌসুমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে।
আরও পড়ুন: অব্যবহৃত ২০০ সরকারি ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: প্রধানমন্ত্রী
“জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন চালের ‘নিরাপত্তা মজুদ’ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে সরকার প্রয়োজনে এই মজুদ ২৪-২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সক্ষমতা রাখে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকিউরমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তনের ফ্লেক্সিবিলিটি রাখা হয়েছে।"
দেশে বার্ষিক চালের চাহিদা প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "চাল আমদানির আপাতত কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে গমের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (৮- ১০ লাখ মেট্রিক টন) চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এটি মূলত আমদানিনির্ভর। দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন।"
চাহিদা মেটাতে সরকার জি-টু-জি এবং উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে ৮ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
এর বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকারকদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম আমদানি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, "চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে আতপ চালের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অন্য অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে সরবরাহ চেইন সচল রাখা হবে। দেশের কোথাও যাতে খাদ্যের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








