নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ২০:৪০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যথাসময়েই ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দীনেশ ত্রিবেদী

যথাসময়েই ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আবারও দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারত সরকারের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং সফর আয়োজনের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। 

তার ভাষায়, সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে। 

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যান্য কার্যক্রম থেমে থাকার কোনো কারণ নেই; বরং বাণিজ্য, অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু, যোগাযোগ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে মাঠপর্যায়ে কাজ এগিয়ে নেওয়াই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগে একাধিকবার ইতিবাচক বার্তা এসেছে। 

সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারতের পক্ষ থেকে স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার কাজ বন্ধ থাকার কোনো কারণ নেই; শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আজ না হলে আগামীকাল বা পরশু হতে পারে। 

তবে তার মতে, কেবল শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে দুই দেশের জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করা জরুরি।

এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী এবং সফরটি শিগগিরই হওয়ার প্রত্যাশা করছে। 

২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেছিলেন, সফরের সময় নির্ধারণ মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে। 

একই সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্যও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আগস্টের মাঝামাঝি এসে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে সফরটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। ১৭ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত। 

তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারপ্রধান সরাসরি বৈঠকে বসলে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন সমস্যা, মতপার্থক্য ও অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা এবং সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতকে শুধু অভিন্ন সীমান্তের দুই দেশ নয়, অভিন্ন স্বপ্নের অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

এরপর ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন বলে তিনি আশা করছেন। 

সে সময় তিনি জানান, সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলমান রয়েছে। ফলে ৭ সেপ্টেম্বরের সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে মন্তব্যকে গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক কূটনৈতিক বার্তারই সর্বশেষ প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের সম্প্রসারিত বা আউটরিচ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। জুলাইয়ে এ আমন্ত্রণের বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছিল এবং আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া উচিত

কিন্তু সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারতের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তিনি বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও নতুন তথ্য দিতে পারেননি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে দিল্লির ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও ১২-১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তার দিল্লি সফর এখনো নিশ্চিত নয়।

এই প্রেক্ষাপটে ৭ সেপ্টেম্বর দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা না দিয়েও তিনি দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে ভারতের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে ব্রিকস সফর এবং আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর দুটিকে একই বিষয় হিসেবে না দেখে পৃথক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ভারতীয় পক্ষও জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ রয়েছে।

শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি সম্পর্ককে কার্যকর পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ওপর দীনেশ ত্রিবেদীর জোর দেওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। 

১৭ আগস্ট তিনি বলেছিলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ দুই দেশের সম্পর্ক বহু খাতে বিস্তৃত হয়েছে। তার বক্তব্যে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। 

৭ সেপ্টেম্বরও তিনি বলেন, দুই দেশ কেবল একটি সীমান্ত ভাগ করে না, অভিন্ন স্বপ্নও ভাগ করে; তাই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা, বাস্তব সহযোগিতা এবং জনগণের যোগাযোগ সমানভাবে প্রয়োজন।

এদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকেও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত ঝুঁকি, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ কমানো, সবুজ অর্থনীতি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা বাংলাদেশে আয়োজন করা। একই সঙ্গে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রোটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভাও বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণবিষয়ক পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশগত সহযোগিতাকে শুধু নীতিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে নির্দিষ্ট বৈঠক ও যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার একটি কাঠামোও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারতের পরিবেশগত বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ায় এসব উদ্যোগের গুরুত্বও রয়েছে। দুই দেশের অভিন্ন নদী ও জলসম্পদ, সীমান্তবর্তী বায়ু ও নদীদূষণ, বন্যা, খরা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট কোনো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আটকে থাকে না। এ কারণে বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ু ও নদীদূষণ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুও বলেছেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, আন্তঃসীমান্ত নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিপজ্জনক বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো সংকট মোকাবিলায় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে সুন্দরবনকে দুই দেশের অভিন্ন প্রতিবেশগত স্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দুই দেশেরই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয়। এর জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় যৌথ গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারও পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। 

তার মতে, জনগণের কল্যাণ ও পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। অর্থাৎ ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের আলোচনায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি পরিবেশ, জলবায়ু ও সবুজ অর্থনীতির মতো দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ক্ষেত্রও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো একত্রে দেখলে ভারতের অবস্থানের তিনটি দিক স্পষ্ট হয় প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ এখনো বহাল এবং নয়াদিল্লি সফরটি নিয়ে ইতিবাচক; দ্বিতীয়ত, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগকে সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত; তৃতীয়ত, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা থামিয়ে রাখার পক্ষে নয় দিল্লি। বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, জনগণের যোগাযোগ এবং পরিবেশগত সহযোগিতায় বাস্তব অগ্রগতির মাধ্যমে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট তথ্য হলো নয়াদিল্লির আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং ভারতীয় পক্ষ সফরটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা সেটি আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে হবে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ব্রিকস অংশগ্রহণের বিষয়ে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের কাছেও নতুন কোনো তথ্য না থাকার কথা জানানো হয়েছে। ফলে সামনে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকছে। এর মধ্যেই পরিবেশ, সুন্দরবন, বাঘ ও হাতি সংরক্ষণ, আন্তঃসীমান্ত দূষণ, কার্বন ক্রেডিট ও সবুজ অর্থনীতির মতো বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে ঢাকা-দিল্লি যোগাযোগ এগিয়ে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়