নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ১,৩৫৫ মৃত্যু, জলবায়ুবিচারের জোরালো দাবি
নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। ছবি: সংগৃহীত
হিমালয়ের পাদদেশের দেশ নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সৃষ্ট প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো জলবায়ুবিচার (ক্লাইমেট জাস্টিস) দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত দেশগুলোর সুরক্ষায় কেবল সহানুভূতি প্রকাশ না করে বিশ্ববাসীকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট পৌডেল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান এই বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের চরম নাজুক অবস্থাকেই উন্মোচন করেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে যে ভয়াবহ বিপদ ঘনিয়ে আসছে, এই দুর্যোগ তারই এক কঠোর সতর্কবার্তা। নেপালের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর আর্তনাদ ও দুর্দশার কথা কেবল শুনে যাওয়ার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে প্রকৃত জলবায়ুবিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলায় ১ হাজার ৩৫৫ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৪ হাজার ৯৯৬ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (NDRRMA) প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ঘরবাড়ি, জনবসতি এবং অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩৮ হাজার ৭৫০ কোটি রুপি বা ২৫৬ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১১ দিন পর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক উদ্ধার
এই পরিস্থিতিকে জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, পুরো জাতি আজ গভীর শোকে স্তব্ধ। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধারকাজে দিনরাত পরিশ্রম করে যাওয়া নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এই সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক হানাহানি বা পরস্পরকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে নেপালকে তাদের প্রচলিত উন্নয়নের মডেল বা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়া সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযান কোনোভাবেই থামবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট পৌডেল।
নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর মর্মান্তিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল, পর্যাপ্ত খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসাসেবা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রকে তাদের দ্রুত মানবিক সহায়তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








