নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৩, ২৭ মে ২০২৬
আপডেট: ২১:২৩, ২৭ মে ২০২৬

ত্যাগের শিক্ষা ও সম্প্রীতির আহ্বানে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

ত্যাগের শিক্ষা ও সম্প্রীতির আহ্বানে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বুধবার (২৭ মে) এক বিশেষ ভিডিও বার্তা এবং পৃথক বাণীতে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। 

শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ঈদুল আজহার মূল চেতনা ত্যাগ, তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এবং আত্মশুদ্ধির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি কোরবানির আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া এবং উৎসবের দিন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্বমুসলিমের দুয়ারে আবারও হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলামের এই মহিমান্বিত উৎসব শুধু বাহ্যিক কোনো আনন্দ-উৎসব নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসে রয়েছে, তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে এই দিবসটিকে চিরকাল মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

কোরবানির প্রকৃত মর্মার্থ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোরবানি কেবল একটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা বা পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের ভেতরের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার আর মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা গ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কোরবানির আসল মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে নিজের অহমিকাকে তাঁর কাছে সমর্পণ করার এই উৎসব মানুষকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করে সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। এটিই পবিত্র কোরবানির অন্যতম প্রধান শিক্ষা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: মনের পশুত্ব বিসর্জন দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন করার তাগিদ দিয়ে বিত্তবানদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ বছর কোরবানি করার সামর্থ্য দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন থাকবে আশপাশের যেসব মানুষের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন। কারণ, সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক সমতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই ঈদের অন্যতম শিক্ষা।

উৎসবের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। 

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া অত্যন্ত মূল্যবান জাতীয় সম্পদ, তাই এটি যেন নষ্ট না হয় সে লক্ষ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করুন। একই সাথে কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি। 

প্রয়োজনে নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সচেতন থাকতে হবে যেন কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা যায় এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়।

ভিডিও বার্তা ও বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন এই পবিত্র ইবাদত ও কোরবানি কবুল হয়। তিনি বাংলাদেশের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন। 

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা দূর করে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে প্রতিটি নাগরিকের জীবন শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যে ভরে উঠবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়