নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ২৭ মে ২০২৬

কৃষিজমি রক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলজিআরডি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

কৃষিজমি রক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলজিআরডি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিজমি সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে সরকারের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

বুধবার (২৭ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আমতলী রেলঘুন্টি এলাকার ভাতার মারি (ইক্ষু) ফার্মে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর জন্য নির্ধারিত ও সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশে কৃষিজমি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে উন্নয়ন ও কৃষি এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় রেখে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই কৃষিজমি নষ্ট করে ঢালাওভাবে কোনো স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কৃষিজমি রক্ষাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবাদি জমি দিন দিন যেভাবে সংকুচিত হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এ কারণে আমরা চেষ্টা করছি যেন সব দিক বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নমূলক কাজ করা যায়। আমি সব সময়ই একটি বিষয়ে জোর দিয়েছি যতটা সম্ভব কৃষিজমি অক্ষত রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে। অনুভূমিকভাবে জায়গা নষ্ট না করে আমরা এখন থেকে ওপরের দিকে অর্থাৎ উঁচু বা বহুতল ভবন নির্মাণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেবো। সরকার অবশ্যই বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রাখবে, যাতে দেশের মূল চালিকাশক্তি কৃষির ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক বা ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে।

আরও পড়ুন: ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

পরিদর্শনকালে চলমান ও আগামী দিনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হলে দল-মত নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কোথাও এমন বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্থান পরিদর্শন শেষ করে মন্ত্রী সদর উপজেলার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি উপজেলার শ্রীকৃষ্টপুর, জগন্নাথপুর, গড়েয়া ইক্ষু খামার এবং সালান্দর এলাকায় যান এবং সেখানে প্রস্তাবিত 'মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল' স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উন্নয়নমূলক কাজের এই পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়