‘নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই করেছি, দায় বাংলাদেশেরই’
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিতর্কিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে জাতীয় সংসদে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
তিনি জানিয়েছেন, এই বাঁধের কারণে বাংলাদেশ নিজেই নিজের ক্ষতি ডেকে এনেছে এবং এর পেছনে ঐতিহাসিক দায় রয়েছে বাংলাদেশেরই তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
অধিবেশন চলাকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের (এম এ মালিক) এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্যের পর স্পিকার ফ্লোর নেন।
নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে এ বিষয়ে আমার কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতা আছে। সত্য কথা হচ্ছে, এই টিপাইমুখ বাঁধটি বাংলাদেশেরই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে ভারত চালু করার সুযোগ পেয়েছিল। আমরাই আসলে ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ টেনে এনেছিলাম।
উল্লেখ্য, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
আরও পড়ুন: এজেডইসি সামিট: জ্বালানি সংকটে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
স্পিকারের মতে, ওই সময়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই আজ সিলেট তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের মূল্য দিতে হচ্ছে।
এর আগে পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক বলেন, ভারত সীমান্তের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উজানে মণিপুর রাজ্যে বরাক নদীর ওপর নির্মিত এই বহুমুখী প্রকল্পের প্রভাবে সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা আজ বিপন্ন। কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে উজানের পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাট ও জনপদ তলিয়ে যায়, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চরম খরা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। সিলেটবাসীর পক্ষে তিনি জানতে চান, এই বাঁধের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে এবং পাহাড়ি পানির চাপ মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেন।
সংসদকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, টিপাইমুখ বাঁধের সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে আমি দ্রুতই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলব। ভবিষ্যতে যাতে এই সংকট নিরসন করা যায় এবং পানিশূন্যতা বা অকাল বন্যার প্রভাব কমিয়ে আনা যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও কারিগরি চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ভৌগোলিকভাবে ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে মেঘনা নদী হিসেবে প্রবাহিত হয়। পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, টিপাইমুখে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নির্মিত এই বাঁধ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদিও দিল্লির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পে পানি প্রত্যাহার হবে না এবং বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তবে স্পিকারের এই বক্তব্য বাঁধটি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








