মাদক ও মানবপাচার নির্মূলে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে মাদক ও মানবপাচারমুক্ত করতে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদক এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়ে যুবসমাজকে বিপথগামী করছে, তাই এ অপরাধ দমনে সরকার কঠোরতম অবস্থান গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত 'কৃষক কার্ড' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর টেকনাফে ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং শিগগিরই সমন্বিতভাবে বড় ধরনের অভিযানে নামবে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই বিএনপি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই তাদের উন্নয়নে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি যা বলে, তা কাজে করে দেখায়।
আরও পড়ুন: ৫ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে যাবে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী
বর্তমানে জুয়া ও অনলাইন জুয়ার উদ্বেগজনক বিস্তারকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে। এই অবৈধ কার্যক্রমের মূলোৎপাটনে বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার এলাকায় মানবপাচার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই অপরাধ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার মানবপাচার বন্ধে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে বাহিনীগুলো নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।
জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের তথ্য ও সচেতনতা অপরাধ দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়াও জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








