বৈশাখী উৎসবে বৃষ্টির শঙ্কা, সঙ্গে ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহ
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের ভোরে রাজধানীর আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও দিনভর উৎসবের আনন্দ সঙ্গী হতে পারে অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া। একই সঙ্গে দেশের পাঁচটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ভোর থেকে দুপুর ১টার মধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অবশিষ্টাংশে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, ভোরে রাজধানীতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা স্বস্তির চেয়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হবে।
আরও পড়ুন: দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা
সোমবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজও অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাসহ পুরো খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
নববর্ষের মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যারা বাইরে বের হবেন, তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছাতা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের আনন্দে কোনো শারীরিক অসুস্থতা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








