ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণে সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কিছু অঞ্চলে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এফসিডিওর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশ, বিক্ষোভ ও র্যালির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জনসমাগম বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি, যানজট ও পরিবহন বিঘ্নসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প পথ বা সময় নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এফসিডিও বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলায় নিয়মিত সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়, বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় ঝুঁকি বেশি। তাই এই তিন জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কূটনীতিকদের সঙ্গে ইসির বৈঠক রবিবার
এফসিডিও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় এই সময়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এসব হামলা নির্বিচারে হতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের স্থানগুলোও এর লক্ষ্য হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন, জনাকীর্ণ এলাকা, ধর্মীয় উপাসনালয় ও রাজনৈতিক সমাবেশ উল্লেখ করা হয়েছে।
এফসিডিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলে তারা উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে, যা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘হরতাল ও বিক্ষোভের সময়’ বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলারও রিপোর্ট আছে। বড় শহরগুলোতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এফসিডিও জনগণকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শুরু হতে দেখলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করা এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ই-মেইল নোটিফিকেশন গ্রহণের পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
এফসিডিও আরও সতর্ক করেছে যে, সরকারের পরামর্শ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করলে ভ্রমণ বিমা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা এলাকায় ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দেয়ার সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








