News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘বিএনপির আপত্তিতে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন’

‘বিএনপির আপত্তিতে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন’

ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, বিদেশে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ইতিমধ্যেই পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক ফোনালাপে তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সেখানে কোনো পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। তাই বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট অপরিবর্তিতই থাকবে।

ইসি মাছউদ বলেন, দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালট এখনও ছাপানো হয়নি; তাই সেখানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বলেন, আসন্ন গণভোটে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের কোনও প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং এটি কঠোরভাবে মানতে হবে।

সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা গণভোট নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব থাকলেও এই গণভোটে কোনও রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট প্রার্থী নেই এবং গণভোটের জন্য আলাদা কোনো আচরণবিধিও প্রণয়ন করা হয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা একটি ব্যালট পেপারে সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখে ভোট দেবেন। অন্য ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাবেন।

এই নির্বাচনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের এসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইন পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইসি শুক্রবার রাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস), সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক কার্ড নিয়ে প্রচারিত সব আবেদন ভুয়া: ইসি

সূত্র জানায়, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক থাকবে, কারণ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় এমন বিধান রয়েছে। প্রতীকের পাশে থাকা ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে। তবে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক রাখা হবে না। নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালটে শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।

পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান ডিজাইনে ব্যালটের মাঝ বরাবর বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ থাকায় বিএনপি তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। 

গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জানান, ওই ব্যালটের কারণে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপরই ইসি পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীক সংবলিত পোস্টাল ব্যালট ছাপার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অতীতের নির্বাচনে ব্যালটও তেমনি ছিল। এই ব্যালট দেশের ভেতরে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের পাঠানো হবে। বিদেশের পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এর জন্য আইন বা বিধিমালায় সংশোধনের প্রয়োজন হবে না, পরিপত্র দিয়েই সমাধান করা যাবে। আরপিওতে (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন) পরিপত্র জারির বিধান রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট চালু করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। এতে দেশে-বিদেশে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন সরকারি চাকরিজীবী, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত, ১০ হাজার ১০ জন আনসার, ভিডিপি ও ৬ হাজার ২৮৪ জন কারাবন্দি। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে এই ব্যালটের মাধ্যমে তারা ভোট দেবেন।

ইসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইন পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার ইসিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিজাইন পরিবর্তন করতে হলে আইন বা বিধিতে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হবে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালট ছাপতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাও আলোচনা করা হয়।

বিজি প্রেসের কর্মকর্তারা বলেন, তারা চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক পেলে ব্যালট ছাপতে ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগবে। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে চার কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে আরপিওর ২৭(৩) অনুচ্ছেদে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বরাদ্দ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত নির্বাচনি প্রতীক সংবলিত ব্যালটের কথা উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ফরম-৭ এ পোস্টাল ব্যালটে স্থগিত রাজনৈতিক দল বাদে অন্য সব দলের প্রতীক রাখার কথা বলা হয়েছে। ফরম-১১ এ প্রতীকের পার্শ্বের ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেওয়ার নিয়ম উল্লেখ করা আছে।

ইসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আরপিওর ২৭ ধারায় পোস্টাল ব্যালটে পরিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধনকারীরা ভোট দিতে পারার কথা বলা আছে। ওই অনুযায়ী পরিপত্র জারি করে সমাধানের কথা চিন্তা করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই পোস্টাল ব্যালটের কাজ শুরু করতে পারবেন ইসির কর্মকর্তারা। পোস্টাল ব্যালট প্রিন্ট হওয়ার পর ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে তা ভোটারদের কাছে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়